সর্বশেষ

সারাদেশ

রাজশাহীতে জমি বিরোধে অন্তঃসত্ত্বার ওপর হামলা ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

মুরাদুল ইসলাম সনেট, রাজশাহী
মুরাদুল ইসলাম সনেট, রাজশাহী

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর ও বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩১ মার্চ উপজেলার প্রেমতলী কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামে সকাল ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ জান্নাতুন নাহার বাদী হয়ে ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মৃত খালেকের ছেলে নয়ন মেম্বারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রেমতলী কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সফিউর রহমানের স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের সঙ্গে একই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মৃত খালেকের ছেলে নয়ন মেম্বার, বারীর ছেলে সাত্তার, মাহমুদ আলীর ছেলে কালাম, টুকু, কালু ও বারীর ছেলে মুক্তারসহ কয়েকজনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

এরই জেরে গত ৩১ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে জান্নাতুন নাহারের বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা জান্নাতুন নাহার বাধা দিতে গেলে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করা হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও হামলাকারীরা তার গলায় থাকা প্রায় ৯ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গৃহবধূর স্বামীকেও মারধর করা হয় এবং তাদের খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত অবস্থায় পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসা গ্রহণ করেন ভুক্তভোগী।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা নয়ন মেম্বার, সাত্তার, কালাম, টুকু, কালু ও মুক্তার—এরা সবাই সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর কাছের লোক ছিলেন। সেই সময় এমপির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় জমিদখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল এলাকাবাসী।

আরো জানা গেছে, রুহুল আমিন নয়নসহ এদের কাজই হলো ক্ষমতা দেখিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙ্গা। ২০১৮ সালে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রেমতলী ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোঃ জালাল উদ্দিনের প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার মালামালসহ মুদিখানার দোকান লুটপাট করে তারা। এছাড়া বিএনপি সেক্রেটারি মোঃ সেলিম রেজা সেন্টুর সাইকেলের দোকান এক মাস তালাবদ্ধ করে রাখেন। কিন্তু আকস্মিক কারণে তারা গ্রেপ্তার হননি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জান্নাতুন নাহার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান বাকির বলেন, অভিযোগ পেছেছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে থানায়। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন