গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিভিল
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকের নেতৃত্বে দলটি মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামে নিহত শিশুর বাড়িতে যান।
এ সময় তারা শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের টিএইচএন্ডএফপিও ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, ডা. দীপ সাহা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দিবাকর বিশ্বাস এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএন্ডএফপিও ডা. রায়হান ইসলাম শোভনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, আশপাশের এলাকায় যেসব শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি, তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বরে আক্রান্তদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গোপালগঞ্জের হাসপাতালে ৬ জন সম্ভাব্য হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে মৃত শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, কারণ সে পাঁচ দিন আগে মারা গেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি।
তিনি জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জেলায় হামের টিকাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এছাড়া জেলার হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ মুকসুদপুর উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের ১০ মাস বয়সী কন্যা তুবা ইসলাম তোহা হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ১৯ মার্চ তার জ্বর শুরু হয়, পরে শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
১০৯ বার পড়া হয়েছে