বরিশালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র হামলা, নারীসহ ১০ জন আহত
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার আধিপত্য প্রদর্শনের জন্য দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে তার সহযোগিরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে অসংখ্য হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালিয়ে তিনটি বসত ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও কুপিয়ে নারীসহ ১০ জনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর বাড়িতে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত এক আসামিকে আটক করে থানায় নেয়ার সময় ট্রলার থেকে হ্যান্ডকাপসহ ওই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ হাতকড়া উদ্ধারসহ আসামিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও আহতরা জানিয়েছেন, মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আধিপত্য বিস্তার করতে ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মজনু খানের ভাতিজা ও চরকালেখান ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সহযোগী হাতবোমা, রামদা, লেজা, লাঠিসোঁটা নিয়ে ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়।
আহত ছালাম মুন্সীর ছেলে রাজিব মুন্সী অভিযোগ করেন, অসংখ্য অপকর্মের হোতা আলো খান, বাচ্চু খান, আলমগীর হাওলাদার, বাদল খান, বাবুল খান, মোস্তফা খান এবং তাদের শতাধিক সহযোগী সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি বসত ঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট করেছে।
হামলাকারীরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেই ২৫–৩০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা ঘরে ঢুকে ছালাম মুন্সী, সজল মুন্সী, কালু মুন্সী, কালাম মুন্সী, জহির মুন্সী, রাশিদা বেগম, ফাতেমা বেগম, মীম আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারকে এলোপাথারি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এর মধ্যে চারজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল ও অন্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, “হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হ্যান্ডকাপসহ আসামি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত বিএনপি কর্মী আব্দুস সালাম মুন্সীর ছেলে সজল মুন্সী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী যুবলীগের ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে তার সহযোগীদের মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আলো খান দীর্ঘদিন এলাকা থেকে আত্মগোপন করেছিলেন। চলতি বছর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওই খেয়াঘাটের ইজারা তাদের স্বজন ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম খান পেয়েছেন।
ছালাম মুন্সী আরও বলেন, অতিসম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা একই ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা বাচ্চু খানকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে এসেছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আলো খান চলতি বছর খেয়াঘাটের ইজারা না পেয়ে নুরুল ইসলামসহ তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছিলেন।
হুমকির প্রতিবাদ করায় আলো খান ও বাচ্চু খানের নেতৃত্বে আলমগীর হাওলাদার, মোস্তফা খান, বাবুল খান, বাদল খানসহ তাদের সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আলো খান র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মজনু খানের ভাতিজা। তার বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আলো খান একই এলাকার বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের সহযোগিতায় পূর্বের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাচ্চু খান, আলমগীর হাওলাদার, মোস্তফা খান, আলো খান ভেদুরিয়া তথা চরকালেখান ইউনিয়নের আতঙ্ক। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চুরি ও ডাকাতির বিস্তৃত অভিযোগ রয়েছে।
এক্ষেত্রে এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যথাযথ তদন্ত ও জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি করেছেন।
হামলার ব্যাপারে জানতে চরকালেখান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু খান হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমার মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে।”
১১৯ বার পড়া হয়েছে