কুয়াকাটায় দুই বছর ধরে সেতু ভাঙা: স্থানীয়রা জীবনঝুঁকিতে
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের বড়হরপাড়া খালের উপর নির্মিত আয়রণ সেতুটি ভেঙে পড়ার পর এলাকাবাসী ও পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বর্তমানে অস্থায়ীভাবে নির্মিত কাঠের সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ২০০৫ সালে মম্বিপাড়া ও পৌরগোজা গ্রামের মধ্যে স্থাপিত এই সেতুটি ‘সাধুর ব্রিজ’ নামে পরিচিত। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি পিকআপ ভ্যানসহ হঠাৎ সেতুটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকায় একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়েও এই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আগত পর্যটকসহ অন্তত ১০ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। মম্বিপাড়া গ্রামের আব্দুল হক বলেন, “কাঠের সেতু দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
মাদ্রাসার ছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভাঙা সেতুর ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে দ্রুত একটি টেকসই নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।” বর্তমানে ভাঙা সেতুর ধ্বংসাবশেষ খালে পড়ে রয়েছে, যা নতুন সেতু নির্মাণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “দুই বছর ধরে ধ্বংসাবশেষ এভাবে থাকতে পারে? কর্মকর্তারা কতটা উদাসীন হতে পারে ভাবতেই পারি না।”
এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজি.আই.জি.ডি) কাছে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জমান বলেন, “ভাঙার পর নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র আমরা নতুন ব্রিজ নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করব।”
এখন এলাকাবাসী ও পর্যটকরা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার আশায় দিনগণনা করছেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে