বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ আসছে, কমছে না তেলের সংকট
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসলেও দেশের জ্বালানি তেলের সংকট কমছে না। চলতি মার্চ মাসে ২৮ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩০টি তেলবাহী জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাস করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আরও ৩টি জাহাজ থেকে তেল খালাস চলছিল এবং আগামী ২–৪ দিনের মধ্যে আরও ২টি জাহাজ নোঙ্গর করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৮৩টি রিফুয়েলিং স্টেশন, ৭৯৯ জন এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর এবং ২৫৫ জন প্যাকড পয়েন্ট ডিলার আছে। চট্টগ্রাম মহাগরীতে ৪৬টি রিফুয়েলিং স্টেশন রয়েছে, যেখানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডিজেলের মজুদ ছিল ২ লাখ টন। বিপিসি জানিয়েছে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে, কিন্তু তেল বিপননকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে না।
পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, যেখানে আগে ৪–৫ গাড়ি তেল সরবরাহ করা হতো, এখন দিনে মাত্র এক গাড়ি তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং নানাভাবে হয়রানি হচ্ছে। বিপিসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যথাযথ বিপণন হলে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম জানিয়েছেন, বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত খালাস করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তেলবাহী জাহাজের সুষ্ঠু খালাস ও বিপণনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে তেল খালাস ও বিপণনের মধ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মজুতদারীর অভিযোগও উঠেছে। শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৩টি ডিজেল পাম্প জব্দ করা হয়েছে এবং চোরাচালান আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযানে জানিয়েছে, প্রভাবশালীদের সঙ্গে তেল চোরাচালান ও মজুতদারীর যোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সকল তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আমদানি করা তেল খালাস ও বিপণনে সরকারি সংস্থার কঠোর মনিটরিং জ্বালানি সংকট কমাতে কার্যকর হবে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে