সর্বশেষ

মতামত

সড়কে আর কত রক্ত: ২৫শে মার্চের ট্র্যাজেডি ও আমাদের দায়বদ্ধতা

লিটন আব্বাস
লিটন আব্বাস

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে সড়ক এখন আর যাতায়াতের নিরাপদ মাধ্যম নয়, বরং এক একটি মরণফাঁদ। প্রতিদিন আমরা দেখি কারও স্বপ্নভঙ্গ, কারও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির বিদায়।

গত ২৫শে মার্চ গোয়ালন্দ-দৌলতদিয়া ঘাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৪ জন মানুষের সলিল সমাধি এবং এর রেশ কাটতে না কাটতেই কুমিল্লায় ১০ জনের একসঙ্গে মৃত্যু প্রমাণ করে যে, আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনা এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন।

এই “মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিল” থামাতে গতানুগতিক আইন আর জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এখন আর যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠোর আইনি সংস্কার ও শূন্য সহনশীলতা নীতি।

সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি!

চালকের ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি: গাড়ি চালানো কেবল একটি কারিগরি কাজ নয়, এটি একটি সচেতন দায়িত্ব। বর্তমান আইনের দুর্বলতার সুযোগে অশিক্ষিত চালকদের হাতে স্টিয়ারিং মানেই সড়কে একটি সচল ঘাতক। ট্রাফিক আইন ও আধুনিক সংকেত বোঝার জন্য চালকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক করতে হবে।

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে বয়সের সীমা: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে গতির উন্মাদনা একে একটি “মরণফাঁদে” পরিণত করেছে। সড়কে চালকের মানসিক পরিপক্বতা নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল চালানোর ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর নির্ধারণ করা জরুরি।

অভিভাবকের দায়বদ্ধতা ও কঠোর দণ্ড: অনেক অভিভাবক শখের বশে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের হাতে দামি বাইক তুলে দিচ্ছেন। আইন এমন হওয়া উচিত—যদি কোনো কিশোর বা লাইসেন্সবিহীন কেউ বাইক নিয়ে ধরা পড়ে, তবে সেই বাইকটি তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিভাবককে ন্যূনতম ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও অবৈধ যান নির্মূল: মহাসড়ক হবে কেবল দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য। এখানে নসিমন, করিমন, ইজিবাইক বা থ্রি-হুইলারের মতো অবৈধ ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। মহাসড়কে যারা গতির প্রতিযোগিতা (রেসিং) করবে, তাদের লাইসেন্স চিরতরে বাতিল করতে হবে।

বাজার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: মহাসড়কের পাশে বসা অবৈধ হাট-বাজারগুলো একেকটি দুর্ঘটনার আতুঁড়ঘর। সড়ককে সম্পূর্ণ বাধাহীন রাখতে হবে। পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিত করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক সুপারিশ গ্রহণ করা যাবে না।

২৫শে মার্চ বা কুমিল্লার মতো ঘটনাগুলো নিছক দুর্ঘটনা নয়, এগুলো অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড—এগুলো কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।

আর কত রক্ত দিলে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে? এখন সময় এসেছে কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা কঠোরভাবে কার্যকর করা। প্রশাসন যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে, তবেই অপরাধীদের মনে ভীতি আসবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জনমনে বিরাজমান এই চরম আতঙ্ক দূর হবে এবং শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে।

এমন এক দেশ চাই, যেখানে ঘর থেকে বের হলে স্বজনরা আর লাশের প্রতীক্ষায় থাকবে না। নিরাপদ সড়ক কেবল স্লোগান নয়, এটি বেঁচে থাকার অধিকার।

আর কত রক্ত দিলে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?
রক্তস্নাত সড়ক উন্নয়নের অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে।
সরকারের এখন সময় এসেছে কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং বিদ্যমান আইনগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করা।

সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরলে এবং মানুষের মধ্যে আইন মানার সদিচ্ছা তৈরি হলে জনমনে বিরাজমান এই চরম আতঙ্ক দূর হবে। শিক্ষিত চালক আর কঠোর আইনের শাসন—তবেই থামবে সড়কে অকালমৃত্যু।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন