রংপুরে জ্বালানি তেলের অভাবে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন বন্ধ
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর শহরে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
তেলের অভাবে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চলাচলও প্রভাবিত হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন কর্মীরা জনরোষের আশঙ্কায় পাম্প বন্ধ করে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।
ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পার্বতীপুর ও শহরের স্টেশন এলাকায় অবস্থিত ডিপো থেকে তেল না পাওয়ায় পাম্পগুলো বন্ধ করা হয়েছে। নগরের বড় ফিলিং স্টেশন নর্দান ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা গেছে, পাম্পের তেল দেয়ার যন্ত্রগুলো কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এ কারণে মটরসাইকেল আরোহীরা ফিরে যাচ্ছেন, আর প্রাইভেট কারগুলোও সঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।
ঢাকায় পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপনের পর ফেরার পথে থাকা চাকুরিজীবী সেলায়মান আলী জানান, শহরের অন্তত ১০টি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও তেল পাননি। এক ঘন্টার মধ্যে ৫ লিটারের বেশি তেল শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত মোস্তাক আহাম্মেদ বলেন, নীলফামারী যাওয়ার জন্য পাঁচটি পাম্প ঘুরেও তেল না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল কাজ করতে পারছেন না।
নর্দান ট্রেডার্সের একজন কর্মচারী আমিনুল জানান, বুধবার মাত্র ৬ হাজার লিটার তেল ডিপো থেকে পাওয়া গেছে, যা দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তেল না পাওয়ায় মানুষের ধৈর্য্য ভেঙে পড়েছে, তাই জনরোষ এড়াতে তারা পাম্প বন্ধ রাখছেন।
লালবাগ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোস্তাকিন জানান, তেলবাহী লরি পার্বতীপুরে গেলেও সেখান থেকে এখন পর্যন্ত জ্বালানি পাওয়া যায়নি, ফলে তারা বাধ্য হয়ে স্টেশন বন্ধ রেখেছেন।
মোটরসাইকেল আরোহীরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তেলের অভাবের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসন এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মহসিন জানান, ডিপো থেকে জ্বালানি না পাওয়ায় তারা তেল বিক্রি করতে পারছেন না। শুক্রবারও ডিপো বন্ধ থাকায় তেল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের পরিস্থিতি বোঝেন না।
১১৪ বার পড়া হয়েছে