ইসরায়েলের সেনাবাহিনী যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম: সতর্কতা
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬ ৪:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্ব এবং বিরোধী দলীয় নেতারা সতর্ক করেছেন যে দেশটির ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বর্তমানে বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম।
সৈন্য সংকট এবং সুনির্দিষ্ট রণকৌশলের অভাবকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন যে আইডিএফ ধ্বংসের প্রান্তে রয়েছে। সংরক্ষিত সৈন্যরা ইতিমধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে কাজ করছে, ফলে তারা চরম ক্লান্ত এবং বিপর্যস্ত। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্যের অভাব বিশেষভাবে প্রকট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন জানান, লেবানন, গাজা, পশ্চিম তীর ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা প্রয়োজন। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত আইডিএফ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আইডিএফকে সামর্থ্যের বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কোনো স্পষ্ট কৌশল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়াই সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠিয়েছে এবং আহত সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সৈন্য না থাকায় সেনারা তাদের লক্ষ্যপূরণে হিমশিম খাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লাপিদ এ সংকট উত্তরণের জন্য আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের দাবি তুলেছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ড্রাফট বা নিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। লাপিদ বলেছেন, যারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এড়াতে চাইবে তাদের সব সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং পলাতকদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করতে হবে।
ইসরায়েলে সামরিক সেবা সাধারণত বাধ্যতামূলক হলেও হারেদি সম্প্রদায়ের পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার্থীরা কার্যত এ নিয়ম থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৈন্য সংকট তীব্র হওয়ায় এই নিয়ম পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হয়েছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে