সংকটের মধ্যে নতুন চালান:
দেশে পৌঁছাল ৩০ হাজার টন জ্বালানি
বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে জ্বালানি সরবরাহে চলমান চাপের মধ্যে আরও একটি বড় চালান পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজে করে মোট ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে।
জাহাজটিতে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল। চুক্তির আওতায় এই তেল সরবরাহ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন এই চালান বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত ডিজেল পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সরবরাহ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিলম্বের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসে মোট ১৭টি জাহাজে জ্বালানি দেশে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে আটটি। আজকের এই জাহাজসহ সংখ্যা দাঁড়াল নয়টিতে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাহাজটি পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানিসংকট নেই। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সাধারণত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে বিপিসি। প্রতিবছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, আর বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়—ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
এদিকে আগামী এপ্রিল মাসে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে তিনটি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন ও ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহ।
এ ছাড়া মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানির সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে