রোয়াংছড়িতে ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় জমজমাট ‘দেবতাখুম’
বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, ঝিরি-ঝরনার কলতান এবং বুনো প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ‘দেবতাখুম’।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভ্রমণের জন্য আসছেন। প্রকৃতির সঙ্গে কিশোরী আরাম ও শান্তির সন্ধানে রোয়াংছড়ির এই পাহাড়ি জনপদ তাদের জন্য এক মনোরম গন্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেবতাখুমের দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড় আর মাঝখানে স্বচ্ছ নীল জলরাশি এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। পাহাড়ি ঝিরিপথ পেরিয়ে পর্যটকদের দেবতাখুমে পৌঁছাতে হচ্ছে কিছুটা রোমাঞ্চকর পথ পেরিয়ে। বনের গভীরে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির ডাক ও ঝরনার স্রোতের শব্দ পর্যটকদের বিমোহিত করছে। ঈদের পঞ্চম দিনেও পর্যটকদের ভিড় কমেনি, বরং দিনভর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ, লিরাগাঁও সেনাবাহিনী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ বাহিনী নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে।
পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গাইডরা পর্যটকদের সহায়তায় নিখুঁত কাজ করছেন। পথপরিচয় থেকে শুরু করে যাতায়াত ও সুবিধার বিষয় দেখাশোনা পর্যন্ত গাইডরা তৎপর। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা ভেলা ও নৌকার ব্যবস্থা করে দূর্গম পথে পর্যটকদের ভ্রমণকে সহজ করছে।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, পাহাড়ি পথে হাঁটা ও দেবতাখুমের নীল জল দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। তিনি স্থানীয় গাইডদের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন প্রকৃতি ও রোমাঞ্চের মিলনে উৎসবমুখর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিন পর্যটকদের আনাগোনা আরও অব্যাহত থাকবে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে