দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মায় বাস: দুইজনের মরদেহ উদ্ধার
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আরও একজন আহত অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মারা যাওয়া দুজন হলেন রেহেনা বেগম (৬০) এবং মর্জিনা বেগম (৫৫)। রেহেনা বেগম রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা। আর মর্জিনা বেগমের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আহত নুসরাত (২৯) নামের এক নারী চিকিৎসক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনার পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, আর একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরিঘাটে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে উঠার জন্য তিন নম্বর ঘাটে অপেক্ষা করছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি এসে পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, ফেরির ধাক্কায় মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়। তিনি বলেন, “চোখের সামনে বাসটি পড়ে গেল, আমরা কিছুই করতে পারিনি।” কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশই বাসের ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বিআইডব্লিউটিসি এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘাট এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। হতাহতের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
১৪৮ বার পড়া হয়েছে