সর্বশেষ

সারাদেশ

ঈদের ছুটি শেষ হলেও কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ

আহসান সুমন, কক্সবাজার
আহসান সুমন, কক্সবাজার

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ৬:১৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঈদের টানা সরকারি ছুটি শেষ হলেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে মানুষের কোলাহল কমেনি। সকাল থেকেই সাগরপাড়ে লাখো পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন নগরী।

ঈদের পরদিন থেকেই বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকত উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রতিদিনই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের সব পর্যটনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কেউ সমুদ্রস্নানে মগ্ন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ কটকট চেয়ারে বসে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও অনেক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে আবাসিক হোটেলের ভাড়া এবং রেস্তোরাঁর খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম জানান, পর্যটকদের হয়রানি রোধ এবং স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

হোটেল মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছেন। দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় দেখা গেছে, ছুটি শেষ হলেও পর্যটকের উপস্থিতি এখনও উল্লেখযোগ্য।

লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্য চোখে পড়েছে। কেউ বালিয়াড়িতে হাঁটছেন, কেউ বিচবাইক, ঘোড়া কিংবা জেটস্কিতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। অনেকে আবার সাগরের হিমেল হাওয়া উপভোগ করছেন বা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন। তবে অধিকাংশ পর্যটকের মূল আকর্ষণ সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে অবসাদ দূর করা।

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের দিন থেকে তিন দিনে অন্তত ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। মঙ্গলবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করলেও শুক্রবার পর্যন্ত পর্যটকের উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রমজান মাসে প্রায় দেড় মাস সৈকত ছিল পর্যটকশূন্য, যা ব্যবসায়ীদের হতাশ করেছিল। তবে ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

বর্তমানে ফটোগ্রাফার, বিচবাইক চালক, ঘোড়াওয়ালা এবং বার্মিজ পণ্যের দোকানিদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। ঘোড়াওয়ালা মোহাম্মদ ইসলাম জানান, দুই ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার টাকা আয় করেছেন। বিচবাইক চালক মো. রাসেল বলেন, রমজানে আয় না থাকলেও এখন পর্যটকের কারণে আয় বেড়েছে। জেটস্কি ব্যবসায়ী মো. সাদ্দাম জানান, পর্যটক বাড়ায় তাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে।

এদিকে সাগরে ঢেউয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রস্নানে ঝুঁকি বেড়েছে। তাই লাইফগার্ড কর্মীরা পর্যটকদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সী-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বর্তমানে সৈকতে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন এবং আগামী দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে মাত্র ২৭ জন কর্মী দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, শীত মৌসুম শেষে বর্ষার পূর্বাভাসে সাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে, ফলে দায়িত্ব পালনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা সৈকতে স্থায়ী টিম দায়িত্ব পালন করছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া মোবাইল টিম পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 

১০৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন