সর্বশেষ

সারাদেশ

রংপুরে ঈদ শেষে টিকিট সংকট, কাউন্টারে নৈরাজ্য, ভোগান্তিতে যাত্রী

লিয়াকত আলী, রংপুর
লিয়াকত আলী, রংপুর

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:২২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বিভাগীয় নগরী রংপুরে ঈদ উদযাপন করতে এসে এখন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া নিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মিলছে না টিকিট। টিকিট বিক্রির নামে চলছে চরম নৈরাজ্য। কাউন্টারগুলো মঙ্গলবার থেকে আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত কোনো বাসের টিকিট নেই বলে ঘোষণা দিয়েছে। টিকিট কিনতে গিয়ে যাত্রীদের সরাসরি বলা হচ্ছে—টিকিট নেই। তবে কবে এবং কীভাবে টিকিট বিক্রি শুরু ও শেষ হলো, সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে পারছে না কাউন্টার কর্তৃপক্ষ।

রংপুর নগরীর কামারপাড়া এলাকায় অবস্থিত ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড থেকে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে প্রতিদিন দুই শতাধিক এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে। ঈদ উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ রংপুরে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছেন। ঈদ শেষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী-পুরুষরা কর্মস্থলে ফিরতে ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে এসে টিকিটের জন্য চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এস আর ট্রাভেলস, আগমনী এক্সপ্রেস, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, নাবিল, এনা পরিবহনসহ বিভিন্ন বাস কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, অর্ধশতাধিক নামী-দামী পরিবহন কোম্পানির কাউন্টারগুলো সিন্ডিকেট করে আগাম দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে কালোবাজারির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ২৫ জুন পর্যন্ত সব বাসের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানানো হচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে কোথাও কোনো নোটিশ বা ঘোষণা নেই।

অন্যদিকে বাসস্ট্যান্ডে ৮০০ টাকার টিকিট দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এতে যাত্রীদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ যাত্রী কর্মজীবী হওয়ায় চাকরি হারানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের আগে কোনো কাউন্টারই অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে আগাম ঘোষণা দেয়নি। বিশেষ করে এস আর ট্রাভেলস, হানিফ, শ্যামলী, নাবিল ও এনা পরিবহন ঈদের পরের দিনের টিকিট বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করছে না।

অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ কাউন্টার কয়েকশ টিকিট নিজেদের কাছে রেখে শত শত যাত্রীকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঢাকাগামী যাত্রী মাশরাফি, শামসুল আলম, আমেনা বেগমসহ অনেকে জানিয়েছেন, তারা এস আর ট্রাভেলসের ঢাকার জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ফোন করে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।

এছাড়াও হানিফ, শ্যামলী, এনা ও নাবিল পরিবহনের কাউন্টারেও অধিকাংশ যাত্রী টিকিট পাননি। যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিট দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হয়নি। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কাউন্টারগুলো টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।

টিকিট না পেয়ে হাজার হাজার যাত্রীর কর্মস্থলে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামগামী যাত্রী আফসানা বেগম ও সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেকে জানান, মঙ্গলবার চাকরিতে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে হানিফ ও শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজাররা জানান, সোমবার থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তবে কখন এবং কীভাবে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

অন্যদিকে ঢাকাগামী যাত্রী সালেহা বেগম ও গার্মেন্টসকর্মী আবেদা বেগম জানান, তারা দুই দিন ধরে গাজীপুরের টিকিটের জন্য চেষ্টা করছেন। এনা ও শ্যামলী পরিবহন থেকে আশ্বাস পেলেও টিকিট পাননি। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।

একইভাবে চাকরিজীবী সোহাগ ও মোন্তাসিরসহ আরও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন দুই শতাধিক বাস চলাচল করলেও টিকিট উধাও হয়ে যাচ্ছে। এমন নৈরাজ্য চললেও দেখার কেউ নেই।

এ বিষয়ে রংপুর ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অফিস থেকে জানানো হয়েছে, তারা ঈদের ছুটিতে আছেন।

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন