মাদারীপুরে জ্বালানি তেলের সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুরে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে যানবাহন চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সীমিত সরবরাহের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্টেশন মালিকরা। ইতোমধ্যে কিছু পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে, আর যেগুলো খোলা রয়েছে সেগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ইউসুফ, সার্বিক ও আড়িয়াল খা ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। দুপুরের মধ্যেই এসব পাম্পের তেল শেষ হয়ে যায়। অনেক স্থানে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি এবং প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী বাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
স্টেশন মালিকদের দাবি, সরকারিভাবে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না। এতে করে বাধ্য হয়ে সীমিত আকারে তেল বিতরণ করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঈদের আগ থেকেই এ সংকট শুরু হয়েছে বলে জানান তারা। অনেক সময় একাধিক পাম্প ঘুরেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি জেলার বাইরে গেলে অনেক পাম্প মাদারীপুরের গাড়িতে তেল দিতেও অনীহা দেখাচ্ছে।
বাইকচালকরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রতিদিন হাজার টাকার বেশি তেল প্রয়োজন হলেও পাম্প থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
চাকরিজীবীদের মধ্যেও এ সংকটের প্রভাব পড়েছে। তারা জানান, দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় কর্মক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ইউসুফ ফিলিং স্টেশনের মালিক ইউসুফ আলী মাতুব্বর জানান, তার পাম্পে দৈনিক ২০ হাজার লিটার ডিজেল, ৩ হাজার লিটার অকটেন ও ৩ হাজার লিটার পেট্রোল প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ৩-৪ দিন পরপর মাত্র ৬ হাজার লিটার ডিজেল, ২ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩ হাজার লিটার পেট্রোল পাচ্ছেন। এই সীমিত সরবরাহ দিয়ে চাহিদা পূরণ সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “চাহিদামতো তেল দিলে একদিন পাম্প চালিয়ে দুই-তিন দিন বন্ধ রাখতে হবে। তাই কম করে তেল দিয়ে পাম্প চালু রাখা হচ্ছে। কিন্তু এতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় গ্রাহকদের অসন্তোষের মুখেও পড়তে হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
১০৪ বার পড়া হয়েছে