ঝিনাইকুড়ি নদী খনন শুরু, ড্রেজার নয় শ্রমিক দিয়েই হবে কাজ: প্রতিমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝিনাইকুড়ি নদী খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এই নদী খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বোদা পৌরসভা ঘিরে প্রবাহিত এই নদীর খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ড্রেজার নয়, শ্রমিক দিয়েই এই খাল খনন করা হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে বারবার এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মানুষকে আর ঢাকামুখী করতে চাই না। ড্রেজার দিয়ে কাজ করলে খরচ হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা, আর শ্রমিক দিয়ে করলে খরচ হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিছু বেশি খরচ হলেও আমরা চাই মানুষের কর্মসংস্থান হোক। আমরা টাকাটা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই, একজনকে ধনী বানাতে চাই না; বরং ১০০ জন মানুষের জীবন-জীবিকা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে চাই। তাদের স্বাবলম্বী করাই আমাদের লক্ষ্য।”
দেশব্যাপী নদী, নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে বোদা উপজেলায় এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রী নিজ হাতে মাটি কেটে এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
পানি সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইকুড়ি নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঝিনাইকুড়ি খালটি এক সময় ছোট হলেও প্রবাহমান নদী ছিল। সময়ের বিবর্তনে এটি ভরাট হয়ে গেছে। এখন আর খাল বা নদীর সেই চিত্র নেই। আজকের এই কাজের মাধ্যমে প্রায় ৩ কিলোমিটার খনন করা হবে, যা প্রায় ১৫ হাজার মানুষের উপকারে আসবে। বন্যার সময় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুকনো মৌসুমে পানির চাহিদা পূরণে এটি সহায়ক হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই খাল খননের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা উন্নয়নের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। “এখানে বৃক্ষরোপণ, মৎস্য চাষ এবং হাঁস পালন করে মানুষ তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে,”—যোগ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার নদী, খাল ও জলাশয় খনন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং খাদ্য রপ্তানিও করেছিলেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ইনশাআল্লাহ আগামী চার বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন করা হবে, যার মাধ্যমে দেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে খাদ্য রপ্তানিতে সক্ষম হবে।”
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও (সার্কেল)-এর কৃষ্ণ কমল সরকার, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানি, জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা।
১০৩ বার পড়া হয়েছে