সর্বশেষ

সারাদেশ

মৌসুমের শেষ বৃষ্টিতে ডুবে গেছে আলু, কৃষকের ঈদের আনন্দ মাটি 

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মৌসুমের শেষ মুহূর্তে বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া আলু ঘরে তুলতে না পারায় এবার ঈদের আনন্দ নেই কৃষকের ঘরে।

অধিকাংশ কৃষক ক্ষেতে আলু রেখেই বোরো চাষ শুরু করেছেন। তাদের আক্ষেপ, বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আলু চাষ করলেও বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া আলু তারা ঘরে তুলতে পারেননি। কিছু কৃষক বাড়তি খরচ করে আলু তুললেও তা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আলুর পর বোরো চাষ খরচের দুশ্চিন্তায় এবার তাদের নিরানন্দ ঈদ কেটেছে। জয়পুরহাটের কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এবারের ঈদ উদযাপন নিয়ে তাদের এমন অনুভূতির কথা জানা গেছে।

সরেজমিনে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ও কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ, উদয়পুর, পুনট ও মাত্রাই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখে জানা গেছে, ঈদের আগের সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্রবার ও রবিবার তিন দিনের ভারি বর্ষনে মাঠের আলু ক্ষেতগুলো ডুবে গেছে। এসব মাঠ থেকে দ্রুত পানি অপসারণ না হওয়ায় পরিপক্ব আলুগুলো পচন ধরে ক্ষেতে নষ্ট হয়ে গেছে।

কিছু কৃষক বাড়তি শ্রমিক খরচ করে ক্ষেত থেকে আলু তুললেও বাড়িতে রাখার পর তাতে পচন ধরে নষ্ট হয়েছে। এমনকি ক্ষেত থেকে দ্রুত আলু তুলে অনেক কৃষক হিমাগারে পাঠালেও পচনের আশঙ্কায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করছেন না। ফলে স্থানীয় মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়া সড়কগুলোর দুই পাশে শত শত মণ পচা আলু ফেলে রেখেছেন কৃষকরা। আলুর দুর্গন্ধে পথ চলা দায় হয়ে পড়েছে পথচারীদের।

এই অবস্থায় অধিকাংশ কৃষক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে ডুবন্ত আলুক্ষেতে আলু সহ চাষ দিয়ে বোরো ধান রোপণ করছেন। জমিতে আলু রেখে ধান চাষ করায় বোরোর ফলন নিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও ডুবন্ত জমি থেকে আলু তোলার বাড়তি লোকসানে কিছুটা রেহাই মিলছে। বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আলুতে ষোলআনা লোকসান হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এবার ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। সন্তানদের জন্য নতুন পোষাক কেনা তো দূরের কথা, সেমাই-চিনিও জোটেনি অনেকের ভাগ্যে।

কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনি গ্রামের বয়োজেষ্ঠ কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “গতবারের লোকসান পোষাতে আমি এবার ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। দু’চার দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে আলু তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাতে পুরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে। শ্রমিক দিয়ে মাছ ধরার মত ক্ষেত থেকে আলু তুললেও শেষ রক্ষা হয়নি। সব আলু পচে গেছে। ধার-দেনা করে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে আলু চাষ করেও কোনো আলু বিক্রি করতে পারিনি। এখন বোরো চাষ কিভাবে হবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। লোকসানের কারণে ঈদের আনন্দও হারিয়ে গেছে আমাদের।”

স্থানীয় মোহাইল গ্রামের কৃষক শাহারুল আলম বলেন, “ক্ষেত থেকে আলু তুলে পাঁচশ বস্তা আলু প্যাকেট করে শ্রমিক সঙ্কটে মাঠেই ফেলে রাখেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে মাঠ ডুবে সেই আলু ভিজে যায়। পরে প্রতি বস্তা একশ টাকা খরচ করে স্থানীয় হিমাগারে আলুগুলি রাখতে পাঠাই। কিন্তু আলু ভিজা থাকায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ তা ফেরত দেন। পরে বাছাই করতে গেলে অর্ধেক আলুই পচে যায়। এতে আমি আলু নিয়ে চরম লোকসানে পড়েছি।”

আলু নিয়ে এমন বিড়ম্বনার চিত্র মোফাজ্জল ও শাহারুলের মতো ওই এলাকার শত শত কৃষকের। তাদের অভিযোগ, গত বছর দাম কম থাকলেও কোনো রকমে উৎপাদন খরচ তুলতে পেরেছিলেন। কিন্তু এবার যে ষোলআনায় লোকসান। অথচ আলু তুলে বিক্রির পর সেই টাকা দিয়ে ঈদের খরচের পাশাপাশি বোরো চাষের স্বপ্ন ছিল তাদের। কিন্তু কৃষকের মেরুদণ্ড এবার ভেঙে গেছে। কাজেই ঈদের আনন্দও এবার শেষ হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক বোরহান উদ্দিন, খায়রুল ইসলাম ও রবিউল হক বলেন, “ফসল নিয়ে পরিশ্রম করেও ঈদের মধ্যে সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারিনি। এমনকি সেমাই-চিনি কেনারও টাকা নেই। ধার-দেনা করে কোনো রকমে সন্তানদের নিয়ে ঈদ করেছি। ঈদের আনন্দ আমরা এবার উপলব্ধি করতে পারিনি।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. সাদিকুল ইসলাম বলেন, “জেলায় এবার ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়েছে। যার মধ্যে বৃষ্টিতে এবার ৭৪১ হেক্টর আলু ক্ষেত ডুবে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে প্রণোদনার বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তা সরবরাহ করা হবে।”

১০৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন