টিকেট কালোবাজিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি রেলমন্ত্রীর
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ: ঈদযাত্রা সার্বিকভাবে স্বাভাবিক, কিছু ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে রেলযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন বিপর্যয় ছাড়া বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু ট্রেনের সময়সূচি সামান্য বিলম্বিত হলেও তা দ্রুত স্বাভাবিক করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।
রেলসেবার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই তিনটি ইন্টারসিটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে, যা যাত্রীসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এদিকে, রেলমন্ত্রী যখন চট্টগ্রাম সফর করছিলেন, ঠিক সেসময় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। এসময় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
একইভাবে বিজয় এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি ছেড়ে যায় বেলা ১১টায়।
রেল প্রতিমন্ত্রী স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রীরা প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে কিছু যাত্রী প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলার সুযোগও নেন।
চট্টগ্রামের পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের বিলম্ব বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “এই দুটি ট্রেনের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। এসব সমস্যা কমাতে ও যাত্রী ভোগান্তি দূর করতে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই ট্রেনগুলো চলাচলে যে জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা এসব ট্রেন নিয়ে অভিযোগ করেছেন যে কোথাও দেরি হচ্ছে। সমস্যাগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। যাত্রী হিসেবে নিজে ট্রেনে যাতায়াত করে সাধারণ যাত্রীদের সমস্যাগুলো দেখে সমাধানের চেষ্টা করছি।”
এবারের ঈদে ট্রেনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আসলে এটি আমাদের চেয়ে আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) আরও ভালো বলতে পারবেন। কারণ আপনারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা আপনারা যেসব রিপোর্ট দিচ্ছেন, সেগুলো দেখে আমাদের কাজ হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় যখনই আমরা সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা প্রিন্ট মিডিয়ার রিপোর্ট পাই, সঙ্গে সঙ্গে কাজের উদ্যোগ নিচ্ছি।” তবে তিনি দাবি করেন, ঈদযাত্রা নিয়ে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা মোটামুটি ভালো।
কারও বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। নীলসাগর ট্রেনটি নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে, সেখানে আমরা স্টেশন মাস্টার ও লোকোমাস্টারকে বরখাস্ত করেছি। তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আর কারও গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্টেশন পরিদর্শনের সময় রেল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সবুক্তগীন, প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌষিয়া আহমেদ, স্টেশন ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী ও স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার প্রমুখ।
১২৮ বার পড়া হয়েছে