জিয়া স্মৃতি যাদুঘরে অর্থমন্ত্রী খসরু
শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বাধীনতার ঘোষকসহ যারা সম্মুখযুদ্ধের অংশ নিয়েছিলেন, তাদের অনেককে এতোদিন পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
এ অবস্থায় অযত্ন ও অবহেলায় রাখা চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে দ্রুত হেরিটেজ ঘোষণা করে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিযা উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “জিয়া স্মৃতি জাদুঘর জাতির গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ প্রপার্টি। এটিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা জরুরি। দ্রুত জাদুঘরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে উন্মুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “এই জাদুঘরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথেও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে স্বাধীনতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল সদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। পরবর্তীতে এই স্থাপনাটিকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, “আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই স্থাপনার অবস্থা ভালো নয়। এটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পুরোনো দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটার দ্রুত প্রতিকার আমাদের করতে হবে। এটি একটি হেরিটেজ প্রোপার্টি, বিশেষ করে যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে লড়াই করা, দেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অন্যতম সাহসী সন্তান জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রয়েছে। এই স্থাপনায় আমাদের জন্য যথেষ্ট জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে।”
অবকাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, “অবকাঠামোর সংস্কার না করে রেনোভেশনের (নতুন রূপ) কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই সংস্কারে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন দ্রুত কাজে হাত দেওয়া হবে, এরপর পরবর্তী কাজগুলো ক্রমান্বয়ে সম্পন্ন করা হবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, জাদুঘরের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, “জাদুঘরের সমস্ত বিষয় সঠিকভাবে পুনঃস্থাপন করতে হবে, যাতে দর্শনার্থীরা অনেক কিছু জানতে পারেন। বর্তমান অবস্থার কারণে এটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।”
এই সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অর্পিতা দাশ গুপ্ত।
১২১ বার পড়া হয়েছে