বাউফলের কালাইয়া বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্য সন্দেহে শত শত বস্তা জব্দ
বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ ৩:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্যের সন্দেহে বিপুল পরিমাণ বস্তাভর্তি মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকালে আলগী নদী সংলগ্ন বন্দরের ধানহাটা ট্রাকস্ট্যান্ডে একটি কার্গো থেকে এসব বস্তা জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৮ মার্চ) রাতের অন্ধকারে পণ্য খালাসের সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা কয়েকটি বস্তা খুলে দেখেন, সেখানে এক ধরনের বীজ রয়েছে, যা তাদের ধারণা অনুযায়ী পপি সিড (পোস্তদানা) হতে পারে। এছাড়া কিছু বস্তায় সুপারি পাওয়া যায়। তবে বাকি বস্তাগুলোতে আরও অবৈধ পণ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ওই রাতেই সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। একপর্যায়ে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তাগুলো স্থানীয়দের হাতে আটকের পর কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মধুসূদন দাস ওরফে মধু মেম্বারের দুই ছেলে উত্তম দাস ও আশীষ দাস ঘটনাস্থলে এসে পণ্যগুলো নিজেদের বলে দাবি করেন।
তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ নিয়ে দেনদরবার চলে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জব্দকৃত এসব পণ্য কালাইয়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মধুসূদন দাসের ছোট মেয়ে জামাই জয়দেব দাসের হতে পারে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মিয়ানমার ও ভারত থেকে অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে তেঁতুলিয়া নদীতে চন্দনকাঠের একটি চালান জেলেদের হাতে ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি রক্ষা পান। এছাড়া ২০২১ সালে কালাইয়া বন্দরের আলগী নদী এলাকায় প্রায় ৩ হাজার বস্তা অবৈধ পণ্যসহ দুটি কার্গো স্থানীয়দের হাতে আটক হলেও একইভাবে তিনি পার পেয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জয়দেব দাসের মোবাইলে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জয়দেব দাসের শ্যালক আশীষ দাস বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বস্তাগুলো জব্দ করা হয়েছে। কিছু বস্তায় পোস্তদানা ও সুপারি রয়েছে, কোনো অবৈধ মালামাল নেই।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৪৪৪ বস্তা ট্রাকে তোলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট ৭৫০ থেকে ৮০০ বস্তা মালামাল হতে পারে। জব্দকৃত পণ্যের প্রকৃতি যাচাই করে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, কোনো ধরনের লুকোচুরির সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে