মহিপুরের বৃদ্ধকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন, হাসপাতালের পথেই মৃত্যু
বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব আকনকে (৭০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তাকে চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
পরে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মোতালেব আকন। এরপর থেকেই তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে, বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৪ নম্বর সারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া এলাকায় নিরব (২৭), পিতা: এছাহাক; জহির হাং (২৮), পিতা: সত্তার হাং; আল-আমিন (৩০), পিতা: হালিম গাজীসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জন তাকে চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে বরিশাল এবং সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ছগির জানান, মোতালেব আকন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি বলেন, “একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুর রহমান জানান, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। নিহতের বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আকন বাদী হয়ে তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-১২)। তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে