মুন্সীগঞ্জে আলুর ভালো ফলন, কম দামে হতাশ কৃষকরা
বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে আলুর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজার মূল্য কম হওয়ায় চাষিরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আলুর দাম কম থাকায় খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করছেন, তবে চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামেই আলু বিক্রি করছেন। জেলার ৬টি উপজেলায় আলু তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
তবে আলু উত্তোলন উৎসবে কৃষকদের মাথায় হাত। গত বছরের লোকসানের পর এবার আবার লোকসানে পড়তে হচ্ছে। আবার দাম কম থাকার পরও জমিতে পাইকারের দেখা মিলছে না।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খুচরায় ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে। জমিতে পাইকারী দরে আলু বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি দরে। অথচ প্রতি কেজিতে ১৫-১৭ টাকা উৎপাদনে খরচ হয়েছে। এছাড়াও, জমিতে আলু কেনার জন্য পাইকাররা আসছে না। ফলে কৃষকরা পাইকারের অভাবে আলু বিক্রি করতে পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪,৬৫৫ হেক্টর। তবে বাস্তবে আলু আবাদ হয়েছে ৩৪,৬৬০ হেক্টর কৃষি জমিতে। এই পরিমাণ জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮.২৫ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত আলু উত্তোলন করা হয়েছে ২,৬৫২ হেক্টর।
লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, এবছর তিনি ৮ কানি জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কম দাম থাকায় তিনি চিন্তায় পড়েছেন। তিনি ঋণ করে টাকা এনে আলু আবাদ করেছেন। নিজেও পরিশ্রম করেছেন, সব মিলিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। ঋণ কিভাবে দেবেন তার মাথায় আসছে না। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭-৮ টাকায়, অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে দ্বিগুণ।
সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিন চরমশুরা গ্রামের মো. আজহার শিকদার বলেন, এ বছর ২৪০ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করেছেন। আলু উৎপাদনের খরচ হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি উৎপাদনের খরচ হয়েছে ১৫-১৬ টাকা। তিনি আরও বলেন, পাইকারদের কাছে এক মন আলু বিক্রি করতে হয় ৩০০ টাকায়। সেই হিসেবে প্রতি কেজি আলুর দাম সাড়ে ৭ টাকা। এক কেজি আলুর উৎপাদনের অর্ধেক খরচও উঠছে না। দাম কম থাকার পরও জমিতে পাইকার পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ উপপরিচালক ড. মো: হাবিবুর রহমানকে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার মো. তাজুল ইসলাম মোবাইলে যোগাযোগ করলে বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে আলু পাচ্ছে প্রতি কেজি ১১ টাকা। পাইকারীতে যাচ্ছে ১৩-১৪ টাকা, খুচরায় ১৫-১৮ টাকা। আশা করা যায়, সামনে আলুর দাম বাড়বে। জাতীয় পর্যায়ে যদি ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তারা তা বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যদি সারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারে, তাহলে হয়তো উৎপাদনের খরচ কম হবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে