সর্বশেষ

সারাদেশ

নাটোরে খাল পুনঃখননে আট গুণ ব্যয় বৃদ্ধি, আলোচনা-সমালোচনা

মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, নাটোর
মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল, নাটোর

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ ৮:৫২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মির্জা মামুদ খাল খননের চেয়ে পুনঃখননে প্রায় আট গুণেরও বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এনিয়ে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

সচেতন মহলসহ স্থানীয়দের দাবি, ২০২২ সালে মির্জা মামুদ খালটি খননে বিএডিসির ব্যয় হয়েছিল ৩৪ লাখ টাকা। অথচ একই খাল পুনঃখননে বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যয় ধরেছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে যা খনন খরচের প্রায় আট গুণেরও বেশি।

সরেজমিনে জানা যায়, গত সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যানারে মির্জা মামুদ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মির্জা মামুদ খালটির নন্দকুঁজা নদী অংশ থেকে মরা বড়াল নদী পর্যন্ত ৪.৮৫০ কিলোমিটার খনন কাজের প্রকল্প নেয় গত অন্তর্বর্তী সরকার। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে ৪ ফুট গভীর এবং তলার প্রস্থ ৬ ফুট খনন করার কথা রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজটি পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স।

অপরদিকে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) তথ্য মতে, ২০২২ সালে একই খালের ৪ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিল, যার ব্যয় ছিল মাত্র ৩৪ লাখ টাকা। তখন খালের খননের গভীরতা ছিল ১০ থেকে ১১ ফুট।

বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী জিয়াউল হক বলেন, ২০২২ সালে মির্জা মামুদ খাল থেকে ৪২,৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়েছিল। এতে খালের নাব্যতা ফিরে আসে এবং সেই থেকে খালপাড়ের কৃষকেরা খালের পানি চাষাবাদসহ প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করছেন।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন জানান, তিনি নতুন এসেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না।

বড়াইগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে এত টাকা ব্যয়ে খালটি পুনঃখনন তাদের বোধগম্য নয়। বর্তমানে খালটি থেকে তারা সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ এলাকার অনেক খাল রয়েছে, যেগুলো দখল ও দূষণে প্রায় নিশ্চিহ্ন। সরকার সেগুলোর দিকে নজর না দিয়ে একই খাল পুনঃখনন করা এটা একটি বড় দুর্নীতির ইঙ্গিত মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নাটোরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল বলেন, ভবিষ্যতে কৃষক ও কৃষির স্বার্থে জেলায় অনেক খাল খনন করা প্রয়োজন। তবে এর আগে জেলার অনেক খাল-বিল-জলাধার, যেগুলো দখলের কবলে প্রায় নিশ্চিহ্ন, সেগুলোকে চিহ্নিত করে উদ্ধারসহ খনন করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে বিএডিসি কর্তৃক বড়াইগ্রামের মির্জা মামুদ খাল সংস্কার করা হয়েছে। একই খাল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক মাত্র তিন বছর পরে পুনঃখনন উদ্যোগ নিয়ে জনগণের প্রশ্ন আসতেই পারে। এছাড়া একই প্রকল্পে প্রায় আট গুণ বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। এটি নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত অর্থে এই প্রকল্পে এত টাকার প্রয়োজন আছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ কাম্য।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন