মহিপুরে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে যুবদলের হামলা, আহত ৬
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুরে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্র ও এজাহার অনুযায়ী, শনিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিপুর থানাধীন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ইফতার বিতরণের সময় ছোট একটি ঘটনার সূত্র ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রুমান (১৩) নামের এক কিশোরকে একই গ্রামের মো. ওয়ারেছ পহলান থাপ্পড় মারেন। প্রতিবাদে রুমানের দাদা রুহুল আমিন এবং প্রপিতামহ হায়দার আলী ফকিরের সঙ্গে হামলাকারীরা অভদ্র আচরণ শুরু করেন।
পরবর্তীতে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ওয়ারেছ পহলান, তার ছেলে রুবেল পহলান, সোহেল পহলান, আলাউদ্দিন পহলান, জাকির পহলান ও তার ছেলে মিরাজ পহলানসহ প্রায় ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ৮০ বছর বয়সী হায়দার আলী ফকির গুরুতর আহত হন, রুহুল আমিন, তার স্ত্রী ময়না বেগম এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও মারধরের শিকার হন। একই সঙ্গে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে; নগদ ৪০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। গুরুতর অবস্থায় হায়দার আলী ফকিরকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রুহুল আমিন ফকির অভিযোগ করেছেন, “জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হামলাকারীরা আমার বাড়িতে ঢুকে আমার বাবা ও পরিবারের উপর নৃশংসতা চালিয়েছে।”
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক মীর বলেন, “আমরা শান্তি বজায় রাখতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু হামলাকারীরা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।”
অভিযোগের জবাবে ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মহিপুর থানার ওসি মোহাব্বত খান জানান, “এজাহার প্রাপ্ত, পুলিশ তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
১০৩ বার পড়া হয়েছে