লালমাইয়ে ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল খননের উদ্বোধন, উপকৃত হবে ৪২ গ্রামের কৃষক
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর একটি শাখা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। সরকারের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ৫ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী দখলকারীরা কোনোভাবেই প্রভাবশালী নয়, তারা অন্যায়কারী ও দুষ্কৃতিকারী। যেসব ব্যক্তি খাল দখল করে রেখেছেন, তাদের এসব দখল ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় দখলের প্রবণতা বাড়ায় অনেকেই খাল-নদী দখল করেছেন, কিন্তু এখন এসব অবৈধ দখল ছাড়তেই হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশার আলম ভূইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। এ সময় স্থানীয় কৃষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশাঁরি চর মাঠ থেকে ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত খালটি পুনঃখননের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রকল্প গ্রহণ করেছে। খালটি খনন হলে উপজেলার প্রায় ৪২টি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া প্রায় ২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
তিনি আরও জানান, খালের আশপাশের জমিগুলো তিন ফসলি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। খালটি পুনঃখনন করা হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং আবারও তিন ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষক অলিউল্লাহ বলেন, খালটি খনন হলে একদিকে যেমন সেচের পানি পাওয়া যাবে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানিও দ্রুত নেমে যাবে। তবে তিনি খালটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে এটি আবার ভরাট না হয়ে যায়।
স্থানীয়দের মতে, খালটি আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির বর্ষার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় এসব খাল পুনরুদ্ধার করা হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, মাছ চাষ ও হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষি সেচের সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় শুধু খাল খননই নয়, খালের পাড় সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
১০৫ বার পড়া হয়েছে