চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে পরিস্থিতি আরও প্রকট হওয়ায় শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শহরের বেশ কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত মের্সাস হোসেন ফিলিং স্টেশন এবং মহানন্দা বাস কাউন্টার সংলগ্ন এমদাদ ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। একই চিত্র দেখা গেছে মেসার্স একে খান পেট্রোল পাম্পেও। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অন্যদিকে সদর উপজেলাসহ জেলার বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
তেল নিতে আসা সফিক নামের এক গ্রাহক জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মোটরসাইকেলই তাদের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হওয়ায় বাধ্য হয়েই তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান চান।
আরেক মোটরসাইকেল আরোহী করিম বলেন, শহরের অনেক পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। কোথাও ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, আবার কিছু পাম্পে পুরোপুরি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমদাদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শামসুল আলম বলেন, আগে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া গেলেও বর্তমানে সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে গ্রাহকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মের্সাস হোসেন পেট্রোল পাম্পের মালিক জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তারা প্রায় তিন হাজার লিটার করে পেট্রোল ও অক্টেন এবং সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছেন, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই ডিজেল শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে পাম্পে সীমিত পরিমাণে পেট্রোল ও অক্টেন বিক্রি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগের দিন পেট্রোল ও অক্টেনের সরবরাহ না থাকায় পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১০৬ বার পড়া হয়েছে