কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এলো ছয় ফুট লম্বা মৃত ডলফিন
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ৪:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে এসেছে বড় আকৃতির একটি মৃত ডলফিন। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে জোয়ারের পানিতে ডলফিনটি সৈকতে ভেসে আসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ডের কর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, প্রায় ছয় ফুট লম্বা অর্ধগলিত ডলফিনটি জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে। তখন সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি খুব বেশি ছিল না। ডলফিনটির মুখের অংশ কিছুটা অক্ষত থাকলেও পেট থেকে লেজ পর্যন্ত অংশ পচে গেছে এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সি-সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগে গভীর সাগরে চলাচলের সময় কোনো বড় জাহাজ বা মাছ ধরার ট্রলারের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে। পরে জোয়ারের পানিতে ভেসে এটি সৈকতে চলে আসে। এর আগে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট আকৃতির কয়েকটি মৃত ডলফিনও ভেসে উঠেছিল। এছাড়া গত তিন মাস ধরে অসংখ্য মৃত মা কাছিমও সৈকতে ভেসে আসছে। সাগরে পুঁতে রাখা মাছ ধরার জালে আটকা পড়েই অধিকাংশ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা জানান, মৃত ডলফিনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় ফুট এবং ওজন তিন থেকে চার মণ হতে পারে। এটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজের ধাক্কা বা প্রপেলারের আঘাতে এর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পচন ধরায় মৃত ডলফিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দ্রুত এটি মাটিচাপা না দিলে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত বন, পরিবেশ ও মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ছয় দিন আগে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। পরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সেটি বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়। তবে গত বুধবার বিকেলে জোয়ারের পানিতে বালু সরে গেলে তিমিটির পচা অংশ আবার দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সেখান থেকেও তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের বাসিন্দা ও সৈকতে আগত দর্শনার্থীদের দুর্ভোগে ফেলছে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে