গোয়াইনঘাটে পোল্ট্রি ফার্মে কিশোর হত্যাকাণ্ড: আসামি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ ৮:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি পোল্ট্রি ফার্মে কিশোর সুমন আহমদ (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আশফাক আহমদ (১৮) ও তার ভাই মুস্তাকিম আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরে প্রধান আসামি আশফাক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর ৩য় খণ্ড এলাকার মাওলানা আবদুল করিমের ছেলে আশফাক আহমদ এবং তার বড় ভাই পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মুস্তাকিম আলী। এ ঘটনায় নিহত সুমনের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন— মজম্মীল আলী ও তৈয়রব আলীর ছেলে রায়হান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে উপজেলার একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সুমনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ বাঁধা ছিল এবং লাশের পাশেই আগে থেকে খোঁড়া একটি গর্ত পাওয়া যায়, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনার পরপরই বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে মুস্তাকিম আলীকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আশফাক আহমদকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আশফাক দাবি করেন, তিনিই একাই সুমনের মুখ বেঁধে জবাই করে হত্যা করেছেন।
তবে নিহতের চাচা পাখি মিয়া দাবি করেছেন, সুমনকে একা হত্যা করা সম্ভব নয়। তার মতে, নিহতের মুখ বাঁধা ছিল এবং হত্যার আগেই ঘটনাস্থলে একটি কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। এসব আলামত থেকে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সুমন হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ও তার ভাইকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
১০৩ বার পড়া হয়েছে