পদ্মায় ডুবে যাওয়া তেলের ট্যাংকার ১৬ ঘন্টা পর উদ্ধার
বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে রাইস ব্র্যান অয়েল বোঝাই একটি ট্যাংকার আনলোডের সময় হাইড্রলিক ব্রেক বিকল হয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ডুবন্ত তেলবাহী ট্যাংকারটিকে তীরে তুলেছে।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক সোয়া ৮ টার দিকে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে এসে পৌঁছায় দৌলতদিয়া থেকে ছেড়ে আসা শাহ মখদুম নামের ফেরি। নোঙ্গর করা ফেরি থেকে যানবাহনগুলো আনলোড করা হয় এবং ওই ফেরিতে ঝিনাইদহ ঢ-৪১-০০৪২ নাম্বারের একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার ছিল।
ট্যাংকারটি ৫ নম্বর পন্টুনের র্যাম থেকে নামার সময় হাইড্রলিক ব্রেক বিকল হয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং নদীতে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের ভিতরে আটকে থাকা চালক ও হেলপারকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে। পরে ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী রেজাউল মুন্সি বলেন, "গতরাতে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটের ৫ নম্বর পন্টুনের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন সময় একটি ট্যাংকার ফেরি থেকে নামার জন্য র্যাম ক্রস করে এবং পন্টুনের রাস্তায় উঠার চেষ্টা করলে ব্রেক ফেল করে নদীতে পড়ে যায়। এই ঘটনা দেখে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকর্মীরা ট্যাংকারের ভিতরে আটকে থাকা চালক ও হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করে।"
তেলবাহী ট্যাংকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকাশ আহমেদ বলেন, "গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম দেখতে ছিলাম। রাত থেকে দীর্ঘ সময় উদ্ধার কাজ চলেছে এবং বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে হামজা নামের জাহাজ দিয়ে ট্যাংকারটি উদ্ধার করা হয়েছে। ট্যাংকারটি যশোর থেকে ২৪ হাজার লিটার রাইস ব্র্যান অয়েল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের ভিতরের তেল নদীতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।"
আরিচা স্থল-কাম নদী ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর নাদির হোসেন বলেন, "ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করি। পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে সমন্বয় করে ট্যাংকার উদ্ধারে কাজ করেছি।"
১২৭ বার পড়া হয়েছে