রংপুরে এনসিপির ইফতার মাহফিলে সংঘর্ষে ৮ আহত, সাংবাদিকদের বয়কট
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ৪:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুরে শহীদ আবু সাইদ স্টেডিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ, বসা ও ইফতারকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এতে ৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে।
এদিকে গণমাধ্যম কর্মীদের ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইফতার ও পানি সরবরাহ না করায় তারা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনসিপি বুধবার রংপুর শহীদ আবু সাইদ স্টেডিয়ামে বিভাগীয় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, সারজিস আলমসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশ চলাকালীন নেতাদের উপস্থিতিতে জাতীয় ছাত্র শক্তি ও যুব শক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্টেডিয়ামে প্রবেশ ও ইফতার প্যাকেট বিতরণ নিয়ে প্রথমে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেন। এ সময় আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে ৮ জন আহত হন।
এনসিপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অনেক নেতা-কর্মী ইফতার সামগ্রী না পেয়ে চলে যান। সমাবেশে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা বসা ও স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিয়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ইফতারের মুহূর্তে সামগ্রী ও পানীয় জলের অপ্রতুলতার অভিযোগে আবারও সংঘর্ষ হয়। এ সময় আসবাবপত্র ভাঙচুর সহ ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অনেকে সমাবেশ স্থান ত্যাগ করে যান।
সংঘর্ষের ঘটনাটি ছবি ধরা হলে এনসিপির রংপুর মহানগরী আহ্বায়ক আল মামুন ও মহানগর নেতা নয়নকে ছবি না তোলার জন্য অনুরোধ করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে অল্প পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এনসিপি নেতারা বলেন এটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার, ফলে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
ঘটনায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। দিনাজপুর থেকে এনসিপি নেতা আশরাফ বলেন, “ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বসার ও ইফতারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। সমাবেশে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।” লালমনিরহাট থেকে আসা মন্তাজির মাসুম ও অন্যান্যরা একই অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নয়া দগিন্ত ও যমুনা টেলিভিশনের রংপুর অফিসের প্রতিনিধি মাযহারুল মান্নান বলেন, “রংপুরে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন, জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইফতার সামগ্রী ও পানি দেওয়া হয়নি। ফলে সকল গণমাধ্যম কর্মী অনুষ্ঠান বয়কট করে স্টেডিয়ামের কাছ থেকে পানি সংগ্রহ করে ইফতার করেছেন। এটি দুঃখজনক ঘটনা।”
রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের সহকারী কমিশনার নজির হোসেন সংঘর্ষের ঘটনা সামান্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বিষয়টি তারা নিজেরাই সমাধান করেছে।”
১২৮ বার পড়া হয়েছে