ময়মনসিংহে ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সড়কে লেগে থাকছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী, সিডস্টোর বাসস্ট্যান্ড ও ত্রিশাল এলাকায় সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে বাজার ও বিভিন্ন দোকানপাট। এছাড়া অবৈধভাবে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় প্রায়ই মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা হয়। বালু ও মালবোঝাই ট্রাক এবং বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকবাহী বাসও মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকায় চার লেনের সড়ক কার্যত দুই লেনে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই, দিঘারকান্দা বাইপাস, মাসকান্দা, পলিটেকনিক মোড়, চরপাড়া ও ব্রিজের মোড় এলাকায় যানজটের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। একবার যানজট শুরু হলে তা ঘন্টার পর ঘন্টা স্থায়ী হয়। পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের অভাবও এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শুধু ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক নয়, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ-শেরপুর, ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড ও বাজার বসার কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
এদিকে শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সংযোগ সড়ক ও অলিগলিতেও যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা লাইসেন্স দেওয়ায় এসব যানবাহন এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে ব্রিজের মোড়ে শেরপুরগামী যাত্রী আবু ইসহাক সরকার বলেন, “ভোর ছয়টায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। দুপুর হয়ে গেলেও এখনও ময়মনসিংহেই আছি। পথে পথে যানজট আর মাঝপথে যাত্রী তোলার কারণে ভীষণ দেরি হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মজীবী নারী বলেন, “অফিসে সময়মতো পৌঁছাতে বাড়ি থেকে অনেক আগে বের হতে হয়। কিন্তু যানজটের কারণে প্রায়ই দেরি হয়ে যায়। অথচ সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।”
বাসচালক মনসুর মিয়া জানান, বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দেওয়ার জন্য গাড়ি থামাতে হয়। এতে গাড়ির সিরিয়াল পড়ে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করায় বাস ও ট্রাক ঠিকভাবে চলতে পারে না।
ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, শহরের ভেতরে প্রায় ২২টি রেলক্রসিং রয়েছে। বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলের সময় এসব ক্রসিং বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা সমাধানে রেললাইন শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা জরুরি।
ময়মনসিংহ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) গোলাম মওলা তালুকদার জানান, পাঁচ হাজার যানবাহনের ধারণক্ষমতার সড়কে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া রেললাইনের কারণে দিনে প্রায় আট ঘণ্টা ১০টি সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখতে হয়।
এদিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মহাসড়কে চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং সাদা পোশাকের পুলিশও মাঠে কাজ করবে।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করা হবে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে