সিলেটে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ, আলোচনায় তিন নেত্রী
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ ৫:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদ। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরীদের ঘিরে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে অন্তত দু’জন সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে বিভাগের চার জেলা থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় লবিং শুরু করেছেন। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় প্রায় ১০ জনের নাম শোনা যাচ্ছে, তবে রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তিন নেত্রী। তারা হলেন—বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে শাম্মী আক্তারকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। প্রায় দেড় দশক ধরে রাজপথের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। যদিও আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে একাধিকবার কারাবরণ ও শারীরিক অসুস্থতার খবর রয়েছে, তবুও দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অবস্থান শক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধধুরীও সিলেটের রাজনীতিতে আলোচিত নাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর কন্যা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাবার আত্মগোপনের সময় থেকে শুরু করে মৃত্যুর পরবর্তী সময়েও তিনি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২১ সালে দেশে ফিরে বাবার মৃত্যুকে ঘিরে ওঠা নানা প্রশ্নে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন তিনি। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানান।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে তিনি প্রার্থী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও লক্ষ্য করা গেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে স্থানীয় রাজনীতি ও কাউন্সিল কার্যক্রমে অভিজ্ঞ সাবিনা খান পপিও সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মরহুম কমর উদ্দিনের কন্যা হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
এই তিন নেত্রীর পাশাপাশি গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন এবং সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্নার নামও আলোচনায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতনের শিকার হওয়া পরিবারটির সদস্য হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে তার প্রতি সহানুভূতির কথা জানা গেছে।
এ ছাড়া সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ঘুরছে। তবে স্থানীয় রাজনীতিতে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন বিএনপির কঠিন সময়ে দলের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন না এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড অভিজ্ঞ ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করবে, নাকি নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও পেশাজীবী উত্তরসূরীদের সুযোগ দেবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে সিলেট বিভাগের ১৯টি সাধারণ আসনের মধ্যে সিলেট-৫ আসনে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য না থাকায় ওই এলাকার একটি অংশ ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এলাকার প্রতিনিধিত্ব জোরদার হবে।
সব মিলিয়ে সিলেটের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন তুঙ্গে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন শাম্মী আক্তার, ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী ও সাবিনা খান পপি।
১৬১ বার পড়া হয়েছে