রংপুরে নকল পানীয় ও শিশু খাদ্য জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর নগরীর কুটিপাড়া এলাকায় দেশ-বিদেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্যের নকল পণ্য তৈরী ও মজুত করার অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান চালানো হয়েছে।
এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শিশু খাদ্যসহ নকল মালামাল জব্দ করা হয়েছে। দুই ব্যবসায়ীর ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত সমস্ত মালামাল ধংস করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রংপুর নগরীর কুটিপাড়া এলাকায় দুটি গোডাউনে দেশ-বিদেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্যের নকল পণ্য তৈরী ও মজুত করে রাখা হয়েছে। বিশেষত পবিত্র ঈদ উপলক্ষে বাজারজাত করার জন্য এসব পণ্য মজুত করা হয়েছিল।
এসব খবরের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিদপ্তর রংপুর অভিযান চালিয়ে দুটি গোডাউন থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার নকল পণ্য জব্দ করেছে। এ ঘটনায় গোডাউনের মালিক দানেশকে এক লাখ টাকা এবং আঙ্গুরকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত সমস্ত মালামাল ধংস করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার রংপুরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুটিপাড়া এলাকায় দুটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, দেশ-বিদেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নাম পরিবর্তন করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য মজুত করা হয়েছে। মূলত পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এসব নকল পণ্য বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, দেশীয় নামকরা কোমল পানীয়ের লোগো লাগিয়ে নাম পরিবর্তন করে নকল করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোকা-কোলা কোম্পানীর স্প্রাইটের পরিবর্তে ‘সুদৃশ্য স্পা’, এছাড়াও ম্যাংগো ফ্রুটি, বিভিন্ন কোমল পানীয়, চিপসসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী রাখা হয়েছিল। প্রথম দেখায় মনে হবে এগুলো নামকরা প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য। এভাবে শত শত নকল পণ্য গুদামে রাখা হয়েছিল।
গোডাউনের মালিক দানেশের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এসব পণ্য তিনি ঢাকা ও নরসিংদী থেকে কিনে এনেছেন। তবে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য হুবহু নকলভাবে প্যাকেজ ও বোতলে রাখা ছিল, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ফলে গোডাউনের মালিক দানেশকে এক লাখ টাকা এবং পার্শ্ববর্তী নকল পণ্য মালিক আঙ্গুর মিয়াকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় জব্দকৃত সমস্ত মালামাল শত শত মানুষের সামনে ধ্বংস করা হয়।
রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমাল আজাদ জানান, ঈদকে সামনে রেখে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নকল পণ্য মজুত করে বিক্রি করার অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং সমস্ত পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে