রংপুরে জ্বালানীর তীব্র সংকট: যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকা
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিভাগীয় নগরী রংপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানী তেল বিক্রি করা হলেও বেশির ভাগ পাম্পে পেট্রোল ও অকটেনের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে।
ফলে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে না পাওয়ায় গ্রাহকরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।
ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ বলছে, চাহিদার অর্ধেক জ্বালানী সরবরাহের কারণে আনার ২-৩ ঘন্টার মধ্যে জ্বালানী শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনি অবস্থায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ সোমবার রংপুর নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়, শাপলা চত্বর, লালবাগসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, বেশির ভাগ পাম্পে পেট্রোল থাকলেও অকটেন নেই।
একটি পাম্পে পেট্রোল বিক্রি করা হলেও দুপুর ২টার পর বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মটরসাইকেল এবং গাড়ি নিয়ে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। গ্রাহকরা বলছেন, ইরান, আমেরিকা ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে সরকার নিজেরাই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পেট্রোল পাম্পগুলোকে সিলিং বেঁধে দেওয়ায় তারা জনপ্রতি ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছেন না। ফলে মটরসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল যে কোনো সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ সালেক মটরস ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১২টার পর থেকে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে।
শুধুমাত্র ডিজেল বিক্রি করা হলেও রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি হওয়ায় চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বরং চাষাবাদের মৌসুমে ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দেওয়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
দমদমা এলাকার কৃষক সালাম মিয়া জানান, ফিলিং স্টেশনগুলো ২ লিটারের বেশি ডিজেল বিক্রি করছে না। কিন্তু দিনভর জমিতে সেচ দিতে ৬-৭ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এভাবে তারা কিভাবে চাষাবাদ করবে।
একই কথা জানিয়েছেন পালিচাড়া গ্রামের কৃষক সাদেক আলী ও মুন্সি মিয়া।
সালেক মটরসের ২০০ গজ দূরে রহমান ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল কিছুই নেই। ম্যানেজার রহমান মিয়া জানান, পাবর্তীপুর ডিপোতে ট্যাংক লরি পৌঁছাতে বিকেল হবে।
তবে চাহিদা প্রতিদিন ৬ হাজার লিটার ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে অর্ধেক, ৩ হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
অপরদিকে শাপলা চত্বরে অবস্থিত বৃহৎ পাম্প ইউনিক ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা গেছে, লম্বা লাইন ধরে মানুষ পেট্রোল ও অকটেন কিনতে আসছেন। বেশির ভাগই মটরসাইকেল আরোহী।
পাম্পের কর্মচারী জয়নাল বলেন, তাদের পাম্পে অকটেন রাত থেকে আছে। পেট্রোল আছে অল্প যা দিয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০০ টাকার পেট্রোল জনপ্রতি বিক্রি করার সিলিং দেওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা মিটছে না।
নগরীর সিও বাজার থেকে আসা গ্রাহক রফিক বলেন, ২০০ টাকার পেট্রোল দিয়ে ২ দিন মটরসাইকেল চালানো সম্ভব নয়। অপরদিকে অকটেন বেশির ভাগ পাম্পে পাওয়া যাচ্ছেনা।
নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে আসা আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, অন্তত ৮টি পাম্পে ঘুরে দেখেছেন কোন পাম্পে পেট্রোল বা অকটেন নেই।
তিনি জানান, ইরানের যুদ্ধের দোহাই দিয়ে রেশনিং পদ্ধতি চালু করায় চাহিদা বেড়েছে। এই পদ্ধতি তুলে দিলে সমস্যা এতটা হবে না।
এদিকে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ আজিজ পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে, অকটেন নেই বলে নোটিশ টাঙ্গানো হয়েছে। সেখানে ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে না।
পাম্পের ম্যানেজার দুলু জানান, চাহিদার অর্ধেক ডিপো থেকে প্রদান করায় তারা বিপাকে পড়েছেন। ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানী তেলের ভয়াবহ সংকট হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে।
ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি যা বলেছে: রংপুর ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক রহমান আলী জানান, ডিপো থেকে আগের মতো পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহ করলে কোনো সংকট হত না।
তিনি বলেন, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের চাহিদা ৬ হাজার লিটার হলেও ডিপো থেকে অর্ধেক, ৩ হাজার লিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা মতো সরবরাহ না পাওয়া এবং রেশনিং পদ্ধতি চালু হওয়ার কারণে দিনভর গাড়ি থামিয়ে অর্ধেক সরবরাহ করায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
রহমান আলী মনে করেন, এই সংকট সমাধানের উপায় হচ্ছে, ডিপো থেকে আগের মতো সরবরাহ করা এবং রেশনিং করার নামে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক না ছড়িয়ে দেওয়া।
১৩২ বার পড়া হয়েছে