চাঁপাইনবাবগঞ্জে গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা, প্রশাসনের আপত্তি
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে সমাজ সংস্কারের কথা বলে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটি।
এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজানো হলে সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আলেমরা। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে দেওয়া এ ঘোষণাকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে তেররশিয়া পোড়াগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম ও আলেমদের উদ্যোগে গ্রামবাসীর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ‘সমাজ সংস্কার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্রামে সব ধরনের গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রামে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালার মাধ্যমে গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো যাবে না। এমনকি মসজিদের মাইকে আজান ছাড়া মৃত্যুসংবাদও একাধিকবার প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মসজিদের ইমাম আব্দুল মালিক-বিন খালেদুর রহমান এবং সহকারী ইমাম জুবাইর আহমেদ বলেন, সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে বিয়ের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা না করার কথাও তারা জানিয়েছেন।
এ সিদ্ধান্তের পর গ্রামের পরিবেশে পরিবর্তন দেখা গেছে। অনেক দোকানি টেলিভিশন বা দোকানে গান বাজানো বন্ধ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রামে প্রবেশের সময় ফেরিওয়ালাদেরও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে। গ্রামের কিছু প্রবীণ ব্যক্তি এ উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও অনেক তরুণ ও সচেতন নাগরিক এর বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, কোনো মসজিদ কমিটি বা স্থানীয় কমিটির গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার আইনি ক্ষমতা নেই।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে শব্দ ব্যবহার করা বৈধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সচেতন মহলের মতে, সমাজ সংস্কারের নামে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা যেন নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না করে এবং কোনো গোষ্ঠী যেন সমান্তরাল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে—সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
১১৬ বার পড়া হয়েছে