পরকীয়ার জেরে আলফাডাঙ্গায় বৃদ্ধকে মারধর, বাড়িতে হামলার অভিযোগ
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ২:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে মারধর এবং তার ছেলের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইয়াদ শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তিনি নিজেকে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার পৌরসদরের কুসুমদি গ্রামের নূরানী জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আহত মনোয়ার খান (৬৫) বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত খান।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, মনোয়ার খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৫) দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী লিমা খান (২৭) দুই সন্তান নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময়ে লিমা খানের সঙ্গে ইয়াদ শেখের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। পরে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে মাসুদ পারভেজ তার স্ত্রীকে তালাক দেন।
পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মাসুদ পারভেজ দেশে ফেরার পর ইয়াদ শেখ তার সাবেক স্ত্রীকে আবার বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে মাসুদ রাজি না হওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইয়াদ শেখ কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মনোয়ার খানের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে কিল-ঘুষি মারা হয়। পরে হামলাকারীরা মাসুদ পারভেজের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধকে মারধর করছেন। আশপাশে কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ বাধা দিচ্ছিলেন না। পরে একজন এগিয়ে এসে হামলাকারীকে থামিয়ে আহত বৃদ্ধকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াদ শেখ বলেন, “হালকা মারামারি হয়েছে। বিষয়টি পারিবারিক সমস্যা, এ নিয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, ইয়াদ মিয়া একসময় উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। তবে পরবর্তীতে ওই কমিটি বাতিল হওয়ায় বর্তমানে তার কোনো পদ নেই।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. হাসনাত খান বলেন, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পাশাপাশি বাড়িতে হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে