কুমিল্লায় জমে উঠেছে ঈদের শপিং হট্টগোল
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লায় ঈদকে সামনে রেখে শহরের শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিপণিবিতানগুলো ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট এবং জামদানিসহ শিশুদের বিভিন্ন বাহারি রঙের পোশাক সাজানো দোকানগুলোতে ক্রেতাদের হাতে চাহিদামতো পোশাক তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লার বিখ্যাত শপিং মল যেমন ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা, সাত্তার খান টাওয়ার, খন্দকার হক টাওয়ার, এস আর প্ল্যানেট, সাইবা ট্রেড সেন্টার, আনন্দ সিটি সহ সব নামি-দামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, পরিবার ও শিশুদের ভিড় সকাল থেকেই চোখে পড়ছে। ক্রেতাদের মধ্যে নতুন পোশাক, ফ্যাশনেবল এক্সেসরিজ এবং ঈদের উপহার সামগ্রীর প্রতি আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বেচাকেনার ধুমে দোকানিরা নতুন অফার ও ছাড়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি দোকানিরা ক্রেতাদের দ্রুত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার মাধ্যমে সহজে কেনাকাটা নিশ্চিত করছেন।
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজায় দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে র্যাফেল ড্রের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছে পাঁচটি মোটরবাইকসহ শতাধিক আকর্ষণীয় পুরস্কার। প্রতিটি পণ্য কিনলেই ক্রেতাদের কুপন প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও এস আর প্ল্যানেট এবার আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে, যেখানে রয়েছে বাইকসহ আরও নামি-দামি পুরস্কার। রমজানের শুরু থেকেই কুমিল্লার শপিংমলগুলো ঈদ উদযাপনের আনন্দ ও কৌতূহলে মুখরিত।
পরিবারসহ শপিং করতে আসা মোশেদা আক্তার জানান, “ঈদ সামনে থাকায় আমরা নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী কিনতে শপিংমলে এসেছি। প্রতি ঈদেই খন্দকার হক টাওয়ার থেকে কেনাকাটা করি। আমাদের বাচ্চারাও এখানে আনন্দের সঙ্গে আসে, তারা প্রতিবারই টোকেন সংগ্রহ করে বক্সে রাখে। শপিংমলের পুরস্কারের আয়োজনটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এবারের ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা পাকিয়ানি ড্রেসের দিকে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি ফারসি ড্রেস। দোকানগুলোতে তিন হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এসব পোশাক।
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার রেড টেক দোকানের মালিক মাহবুব আলম বলেন, “ঈদের বাজার দিন দিন জমে উঠছে, আমাদের বেচাকেনাও বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে ঘুরে ঘুরে পোশাক এনেছি। পাকিয়ানি ড্রেসের ওপর বেশি আগ্রহ থাকায় দোকানে প্রচুর পাকিয়ানি ড্রেস রাখা হয়েছে। ক্রেতারা আসছে, পছন্দের পোশাক পেয়ে খুশিতে কিনে নিচ্ছে।”
কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও খন্দকার হক টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী জামাল খন্দকার জানান, “ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনা তত বাড়ছে। গতবারের ঈদ থেকে এবারের বেচাকেনা আরও বেশি হবে।”
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম ভুইয়া বলেন, “সকাল ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ক্রেতাদের সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত কর্মী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। উৎসবের আমেজ বজায় রেখে সবাই যাতে আরামদায়কভাবে কেনাকাটা করতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে লটারির ব্যবস্থা করেছি। সেখানে মোটরবাইক থেকে শুরু করে শতাধিক আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।”
কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “নগরীর সব শপিংমলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশ ও ডিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
১০৮ বার পড়া হয়েছে