মানিকগঞ্জে তেল সংকট: পাম্প তেলশুন্য, খুচরা বাজারে বিক্রি চড়া মূল্যে
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে মোটরসাইকেলসহ ছোট ও বড় যানবাহনগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে সীমিত পরিসরে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন জ্বালানি তেলের পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ও ইসরায়েলে চলমান যুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল আমদানি করতে নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এর প্রভাব জেলা পর্যায়েও পড়েছে। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টের পাম্পে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্প ছাড়াও উপজেলার পাম্পগুলোতে বড় বড় লেখা “তেল নাই” সাইনবোর্ড ঝুলছে।
যেখানে দুই-একটি পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সিরিয়াল অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে চালকের হেলমেট থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য দিনে একবার ২০০ বা ২৪০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে। তবে এত কম টাকার তেল দেওয়ায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, খুচরা বাজারে চাহিদা অনুযায়ী তেল অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
সুজন মাহমুদ নামের একজন পণ্য সরবরাহকারী (ডেলিভারি ম্যান) বলেন, “সকাল সাড়ে ৯ টার সময় কয়েকটি পাম্পে গিয়েছিলাম, দেখলাম তেল নাই। পরে একজন বললো পদ্মা পাম্প তেল দিচ্ছে। সেখানে বিশ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ২০০ টাকার অকটেন (১.৬৭ লিটার) পেয়েছি। শহর থেকে দৌলতপুরের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি। পণ্য নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে ফেরার সময় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তখন খুচরা বাজার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে তেল কিনতে হচ্ছে। আমার মনে হয়, যাদের প্রয়োজন তাদের যাচাই-বাছাই করে তেল দিলে ভালো হতো।”
সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী আবুল কাশেম বলেন, “সকালে ঘুরে তিনটি পাম্প থেকে সাড়ে ছয়শতাধিক টাকা তেল সংগ্রহ করেছি। এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পের দূরত্ব, তেল নেওয়া পরিমাণ এবং খরচ হিসাব করতে অনেক সময় লাগছে। তেল সংকটের কথা শুনে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করছি।”
আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “যথাযথ প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দিলে কোনো সমস্যা হতো না। আমরা শুনেছি জ্বালানি তেল সংকটের কারণে কৃত্রিম হুমকি দেখিয়ে তেল ক্রয় করতে হচ্ছে। অপর দিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ২০ থেকে ৩০ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করছেন। এটি পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
একাধিক খুচরা তেল বিক্রেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানিয়েছেন, “আমরা অতিরিক্ত মূল্যে তেল কিনছি পাম্প থেকে। কখন কিভাবে তেল সংগ্রহ হয়, তা সঠিকভাবে জানা যায় না। মধ্যরাতে পাম্প থেকে তেল নিয়ে আসি ভ্যানে করে। অনেক পাম্পে তেল আছে, তবে তারা ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নাটক করছে। পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও আমরা খুচরা ব্যবসায়িদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।”
জেলার একাধিক পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, “ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত তেল দিতে পারছি না। তেলের সীমিত পরিমাণ গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করছি। তবে আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক সরবরাহ শুরু হবে।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, “তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা যাবে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১১২ বার পড়া হয়েছে