গোয়াইনঘাট সীমান্তে ইয়াবার ছড়াছড়ি, উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক ইয়াবা। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা জনপদগুলোতে হাত বাড়ালেই মিলছে এই মারাত্মক নেশাজাতীয় দ্রব্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটনকেন্দ্র জাফলং থেকে গুচ্ছগ্রাম হয়ে নলজুড়ী এলাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ২০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াবার নেশা এখন সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বয়স্করাও এই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। ফলে এলাকায় মাদক নির্মূল করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৩ নম্বর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, রহমতপুর, কালিনগর ও পাথরটিলা এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে বাবু মিয়ার ছেলে শরীফের বিরুদ্ধে। কানাই জুড়ি ও শান্তিনগর এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করেন মাদক সম্রাট শাহাবুদ্দিনের জামাতা তমসের আলী। তামাবিল স্থলবন্দর এলাকা, মুজিবনগর ও চেয়ারম্যানটিলা এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে।
এছাড়া নলজুড়ী, পুলিশ ফাঁড়ি, মধ্যবস্তি ও আশ্রয়ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করেন সাহাব উদ্দিন, যার নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও মাদকের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করছে, তবে তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি এবং স্থানীয়দের নীরবতার কারণে ইয়াবা নির্মূলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় মুরব্বি জানান, শান্তিনগর গ্রামে ইয়াবা ব্যবসা সবচেয়ে বেশি হলেও মুরব্বি সমাজ কিছুই করতে পারছে না। প্রতিবাদ করলে অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষেই দাঁড়ান স্থানীয়রা। এমনকি প্রতিবাদকারীদের ফাঁসাতে তাদের কাছে ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ঘটনাও ঘটে।
এরই একটি উদাহরণ হিসেবে গত মাসে তামাবিল এলাকায় এক ব্যবসায়ীর অফিস থেকে মুন্না ও বোরহান নামের দুই শ্রমিককে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় কঠোর নজরদারি এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এই মাদক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।
১১১ বার পড়া হয়েছে