রোজার বাজারে কিছু পণ্যে স্বস্তি, বাড়তি দাম মুরগি ও মসলার
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর বাজারগুলোতে রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে কিছু নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি মিললেও কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।
লেবু, শসা ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও ব্রয়লার মুরগি, চিনি ও বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ, সবজি ও গরুর মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কিছু নিত্যপণ্যের দামে সামান্য স্বস্তি মিলেছে। পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমে বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কাঁচা মরিচের দামও কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে।
রমজানের শুরুতে ইফতারের চাহিদা বাড়ায় লেবু ও শসার দাম বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় প্রতি হালি লেবু মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে কিছুটা কমে এখন প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে শসার দামও কিছুটা কমেছে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ করিম বলেন, রোজার শুরুতে লেবু, শসা ও পেঁয়াজের চাহিদা বেশি ছিল। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে রাখায় এখন চাহিদা কমেছে এবং দামও কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা নুরউদ্দিন জানান, তারা কাপ্তান বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে মুরগি সংগ্রহ করেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।
বাজারে চিনি ও সুগন্ধি চালের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১০ টাকা বাড়িয়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মসলার বাজারও চড়া হয়ে উঠেছে। আলুবোখারার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া জিরা, কিসমিস ও বিভিন্ন ধরনের বাদামের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। যদিও তেলের দাম এখনো বাড়েনি, তবে অনেক দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করছেন। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এজন্য বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
১২৮ বার পড়া হয়েছে