চাঁদপুরে ইউএনও’র নাম করে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ৩:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়ার নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের বরখাস্তকৃত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে।
তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরেজমিনে কলেজে গিয়ে পরীক্ষার্থী, অভিযুক্ত ও বহিস্কৃত শিক্ষক এবং সভাপতির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের জন্য বিজ্ঞান বিভাগের ফি ২ হাজার ৯৯৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফি ২ হাজার ৪৩৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার রিপা জানান, তার কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য ৪ হাজার টাকা এবং কোচিং বাবদ আরও ১ হাজার ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ বলেন, তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাকে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি জানান, তার কাছ থেকে ফরম পূরণে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই ক্লাসের শিক্ষার্থী জামিলের কাছ থেকেও গত ৪ মার্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। তবে ৪ মার্চ থেকে তিনি আর এ দায়িত্বে নেই। বর্তমানে কলেজের দায়িত্বে রয়েছেন বরখাস্তকৃত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া। যদিও সিনিয়র শিক্ষক গৌরি রানি সাহা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, কিন্তু নানা অজুহাতে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রভাবশালী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে ২০১৫ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। দুটি বিষয়ই এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রভাব খাটিয়ে তিনি কলেজে এসে নানা অনিয়ম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শুরুতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন মফিজুল ইসলাম। পরে কিছুটা শান্ত হয়ে তিনি বলেন, কলেজের এমপিওভুক্ত নন এমন শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার জন্য ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তবে এভাবে টাকা নেওয়ার নিয়ম আছে কি না এবং এই সিদ্ধান্ত কে দিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সভাপতি অনুমতি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে ওই শিক্ষক তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। তিনি তাকে নিজের দপ্তরে ডেকেছেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও পূর্ববর্তী ইউএনও’র নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী কলেজে গেলে তাদের সঙ্গে শিক্ষক মফিজুল ইসলাম খারাপ আচরণ করেন বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কমিটি এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বরখাস্তকৃত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সবকিছু হবে। এর বাইরে কোনো কিছু হবে না।
১০৯ বার পড়া হয়েছে