কোটালীপাড়ায় প্রায় মরা গরুর মাংস বিক্রি, জরিমানা ও ৪শ' কেজি মাংস ধ্বংস
বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ ২:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় অসুস্থ ও মরণাপন্ন গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে আলী আকবর গাজী নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় তার ফ্রিজে সংরক্ষিত প্রায় ৪০০ কেজি গরুর মাংস মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে কোটালীপাড়া উপজেলা সদরের পৌর মার্কেটে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিরাজ হোসেন জানান, একটি গরু কীটনাশক মিশ্রিত ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মরণাপন্ন অবস্থায় গরুটি জবাই করে মাংস ব্যবসায়ী আলী আকবর গাজী তা তার ফ্রিজে সংরক্ষণ করে বিক্রির প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে দেখা যায় ফ্রিজের ভেতরে গরুর মাংস, চামড়া, ভুঁড়ি ও পা একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এসব অপরাধে মাংস ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ফ্রিজে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি মাংস মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, গরু জবাই করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেওয়ার বিধান থাকলেও অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তা নেননি। ভবিষ্যতে অসুস্থ, মরণাপন্ন বা রোগাক্রান্ত গরু জবাই বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যবসায়ী অসুস্থ বা মারা যাওয়ার উপক্রম এমন গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। এতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছিলেন। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও পৌরসভার তদারকির ঘাটতির কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মৃত বা অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী গরু বাজারে আনার পর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছ থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হয় এবং পৌরসভার তদারকি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জবাই করার কথা। তবে অনেক ব্যবসায়ী বাইরে গরু জবাই করে সার্টিফিকেট ছাড়াই বাজারে মাংস নিয়ে আসেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
১০৬ বার পড়া হয়েছে