কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ৫:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল। তারা ১৪টি পদে প্রার্থী দিয়ে ৭টিতে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ৬টি পদে বিজয়ী হয়েছে। আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সভাপতিসহ ৪টি পদে জয় লাভ করেছে।
১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতির ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি রাজনৈতিক ঘরানার প্যানেল আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। অতীতে সাধারণত বিএনপি-জামায়াত জোট ও আওয়ামী লীগ—এই দুই প্যানেলের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল। সরকার পতনের প্রায় ১৯ মাস পর জেলা পর্যায়ে এটি ছিল প্রথম নির্বাচন, যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা প্রকাশ্যে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন ও চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
মোট ভোটার ছিলেন ৯৪৮ জন। এর মধ্যে ৮৯২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কক্সবাজার কেন্দ্রে ৮০৬ এবং চকরিয়া কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোট দেন।
সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক এবং নির্বাহী সদস্য পদে তিনজন নির্বাচিত হন।
জামায়াত সমর্থিত প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদক, দুইজন সিনিয়র নির্বাহী সদস্য ও একজন নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (হিসাব), আপ্যায়ন সম্পাদক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, দুইজন সিনিয়র নির্বাহী সদস্য এবং দুইজন নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন।
১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাং আহমদ কবির।
গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে তিন পক্ষের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়ভাবে এই নির্বাচন এখন ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে