ইসরায়েলের দাবি, খামেনি নিহত; তেহরানের পাল্টা বক্তব্য ‘তিনি রণাঙ্গনে নেতৃত্বে’
রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ ১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় খামেনির মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন’ এবং ‘রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’।
শনিবার ভোরে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বিত হামলা চালায় বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্ব। তেহরানে খামেনির দপ্তর ও বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় হামলার পর কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও খামেনির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, খবরটি সঠিক।’ একই সময় ফক্স নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ইসরায়েলের একটি হামলায় খামেনিসহ ইরানের পাঁচ থেকে ১০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে ওয়াশিংটনের ধারণা।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ আছেন এবং পরিস্থিতি সরাসরি তদারক করছেন।
১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন খামেনি। সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন। পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণেও তাঁর প্রভাব ছিল নিরঙ্কুশ।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে খামেনিকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে তেহরান সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসছে। গত বছরের মাঝামাঝি ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। সে সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ খামেনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।
খামেনির নেতৃত্বে ইরান যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করে। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকারের করা পরমাণু চুক্তিতে তিনি সমর্থন দেন, যা ইরানকে সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর খবর সত্য হলে তা যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হবে। তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে