নাটোরের নলডাঙ্গায় যুবদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে চারজন গ্রেফতার
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, কথাকাটাকাটির পর উভয় পক্ষই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের উপর হামলা চালায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন পিপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলী ও তার পরিবারের তিনজন। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ দলের সহ-সভাপতি লিটন ও রিপনসহ অন্তত তিনজনও আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিপনের দুই আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আরব আলীও রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের নাটোর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিঠুন কুমার দেব বলেন, “ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়, এটি পারিবারিক শত্রুতার কারণে সংঘটিত হয়েছে।” জেলা যুবদলের সভাপতি এ. হাই তালুকদার ডালিমও এ সংঘর্ষকে রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং পারিবারিক ঝামেলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “উভয় পরিবারের মধ্যে এটি তৃতীয় দফার সংঘর্ষ। দোষ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর বাঁশভাগ পূর্বপাড়ার মৃত আব্দুল করিম ব্যাপারির ছেলে মোঃ আনসার ব্যাপারী নলডাঙ্গা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মোঃ হযরত আলী সরদার, খাদিজা বেগম ও মরিয়ম খাতুনকে আটক করে।
এছাড়া জেলা যুবদলের স্বাক্ষরিত প্যাডে পিপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মোঃ লিটন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্যাডে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। জেলা যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক বজায় রাখবেন না।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, “মামলা দায়েরের পর রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।”
১০৬ বার পড়া হয়েছে