নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭, রিমান্ড আবেদন
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। একই সময় ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অপর আসামি হযরত আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ নিয়ে গত দুই দিনে মামলার সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
শনিবার সকালে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। এজাহারে উল্লেখিত চারজন ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট আসামি এবং গ্রাম্য সালিশে সহায়তাকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক বাকি দুই আসামিকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারের সময় প্রধান আসামি নূরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. কলিমুল্লাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালত আগামী ১ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। শনিবার দুপুরে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরা ও হযরত আলীকেও আদালতে সোপর্দ করে তাদের বিরুদ্ধেও ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কিশোরী আমিনাকে তার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মাধবদী ও নরসিংদী এলাকায় মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে