মোংলা-রামপালে ৪ খাল পুনঃখনন শুরু, দখল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা: শেখ ফরিদুল ইসলাম
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
উপকূলীয় জনপদের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মোংলা ও রামপালের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাল দখল বা ইজারায় রাখা যাবে না; স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর খালগুলো পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ও বেনীরখন্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি অপসারণ করা হবে। খালের ওপরের প্রস্থ ২৫ ফুট, নিচের প্রস্থ ৫ ফুট এবং গভীরতা ৮ ফুট রাখা হবে, যাতে জোয়ার-ভাটার পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে। প্রায় ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও জানান, খাল দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খালের প্রবাহ সচল রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর খনন কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। বক্তারা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
১৭৩ বার পড়া হয়েছে