সর্বশেষ

জাতীয়অতিরিক্ত ভাড়া ও চাঁদাবাজিরোধে কঠোর ব্যবস্থা : রবিউল আলম
১৩ মাসে উৎপত্তি ৩২টি — বড় ভূমিকম্পনের আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
শুল্ক কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই, ১২ কেজি এলপিজি ১,৮৫০ টাকায় বিক্রি
সারাদেশঠাকুরগাঁওয়ে অফিস প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন মির্জা ফখরুল
আমি নির্বাচিত না হলে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারত: নুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে আগুনে পোড়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজ্ঞাত
পাবনায় পৃথক স্থান থেকে দাদী-নাতনির মরদেহ উদ্ধার
ফেনীতে কুড়িয়ে পাওয়া ৭ লাখ টাকা ফেরত দিলেন নিরাপত্তাকর্মী
আন্তর্জাতিকবলিভিয়ায় অবতরণের সময় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ১১
খেলাসেমিফাইনালে খেলতে পাকিস্তানকে কঠিন সমীকরণ মেলাতে হবে
জাতীয়

শুল্ক কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই, ১২ কেজি এলপিজি ১,৮৫০ টাকায় বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শুল্ক প্রত্যাহার ও আমদানি বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও বাজারে এলপিজির দামে স্বস্তি ফেরেনি। কাগজে-কলমে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে খুচরা বাজারে একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায়। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে বাজার তদারকিতে ঘাটতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অসংগতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকার গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ আগাম কর আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রত্যাহার করে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রত্যাশা ছিল, শুল্ক কমলে বাজারে দাম কমবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজির দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজির মূল্য ধরা হয় ১১১ টাকা ৭৯ পয়সা। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি মূল্য সমন্বয়ের সময় ৫০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মগবাজারের বাসিন্দা ইন্দ্রনীল সরকার জানান, তিনি সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলার পর্যায় থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

চট্টগ্রামের চকবাজার, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদ এলাকায়ও ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটেও একই পরিস্থিতি। পরিবহন ব্যয়ের অজুহাতে বরিশাল ও সিলেটে দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মফস্বল ও উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত দুই বন্দর দিয়ে এলপিজি আমদানি হয়েছে প্রায় ৯১ হাজার টন, যা আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি। সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলো দিয়ে মাসে আরও প্রায় ২২ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়।

দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসায় জড়িত থাকলেও ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে সক্রিয় রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৯টি কোম্পানি মোট আমদানির ৯২ শতাংশ সরবরাহ করছে। বেক্সিমকোসহ অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

গত নভেম্বরে এলপিজি আমদানি ৪৪ শতাংশ কমে যায়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও সরবরাহ বাড়েনি। তিতাসের গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায় এবং বাজারে সংকট তীব্র হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আমদানি বাড়ানোর অনুমতি দিলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়।

শীর্ষ আমদানিকারক মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক জাহাজে প্রায় ৫৭ হাজার টন এলপিজি চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। এছাড়া ইউনাইটেড আইগ্যাস, যমুনা স্পেকটেক ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামসহ অন্যান্য কোম্পানিও আমদানি বাড়িয়েছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতারা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে খুচরা পর্যায়ে কঠোর নজরদারি না থাকলে ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন না।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, শুধু কাগুজে মূল্য নির্ধারণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। উৎপাদন, আমদানি, ডিলার ও খুচরা—সব পর্যায়ে সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সারা দেশে মাঠপর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো পর্যাপ্ত জনবল কমিশনের নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে। অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রমাণ মিললে জরিমানাও করা হচ্ছে।

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন