ফরিদপুরে পৌরসভা নির্বাচনের দৌড়ঝাপ শুরু, প্রার্থীরা চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে পৌরসভা মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আলোচনার ধাপ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টার ও ব্যানার ঝুলানো হয়েছে, যা প্রার্থীদের আগ্রহ ও প্রস্তুতির প্রমাণ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা পর্যন্ত, পৌরবাসী কাকে ভোট দেবেন সেই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শহরে পৌরমেয়র পদে আগ্রহী বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরীয়া স্বপন, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি, এবং মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ তাবরীজ। এছাড়া জেলার ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী ও নগরকান্দা পৌরসভাতেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম শোনা যাচ্ছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরীয়া স্বপন জানান, “দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে জনগণের জন্য কিছু করার আগ্রহ সবসময়ই রয়েছে। ফরিদপুরের সচেতন পৌরবাসী একজন সৎ, যোগ্য এবং ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে পৌরমেয়র হিসেবে দেখতে চায়। আমি এই যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আমার বিরুদ্ধে কোনো চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। যদি নির্বাচনের সুযোগ পাই এবং পৌরবাসী আমাকে নির্বাচিত করে, আমি প্রথমেই ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য কাজ করবো। পাশাপাশি শহরের রাস্তা-ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, পৌর করের পরিমাণ যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল বলেন, “দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দলের মধ্যে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহরের জন্য কাজ করেছি। দলের বিভেদ মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। পৌরবাসী ও দলের কর্মীরা আমাকে পৌরসভা মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। অতীতের মেয়র অমিতাব বোসের সময় ইজিবাইক ট্যাক্স কমিয়ে আনা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিজ উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন আইল্যান্ড তৈরি করার মাধ্যমে পৌরসভা ও শহরের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নাগরিক সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে সম্পৃক্ত করবো।”
মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গি বলেন, “আমি একাধিকবার পৌরসভার কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছি। বিগত মেয়র নির্বাচনে আমি ভোটে হারানোর চেষ্টা ও বাধার মুখে পড়েছি। কিন্তু বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর নির্দেশনায় তৎকালীন যুবদল গঠন করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। দীর্ঘ ৪৮ বছর রাজনীতিতে সুনামের সঙ্গে থাকার কারণে আমি জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর কর, রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখব।”
ফরিদপুরের পৌর নির্বাচনে এই মুহূর্তে মূল আলোচনা নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবার ওপর কেন্দ্রিত। পৌরবাসী কাকে ভোট দেবেন এবং কে বিজয়ী হবেন, তা নির্বাচনের দিনই স্পষ্ট হবে। তবে এখনই শহরের রাজনীতিতে আলোচনা ও প্রস্তুতির উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে