প্রবীণ মায়ের ভরণপোষণ না করায় স্বামী-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা, লিগ্যাল এইডে আবেদন
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অসুস্থ প্রবীণ মায়ের যথাযথ ভরণপোষণ ও চিকিৎসা না করার অভিযোগে স্বামী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর বড় মেয়ে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নাটোর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী মারহুমা ফেদৌস শিল্পী খাতুন জানান, তাঁর মা তাসলিমা বেগম (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি স্ট্রোকজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, অসুস্থতার পর স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ও দুই ছেলে আকাশ চৌধুরি সম্রাট এবং মো. শিমুল তাঁর চিকিৎসা ও দেখভালে উদাসীন ছিলেন। তাঁদের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া নতুনপাড়া এলাকায়।
শিল্পী খাতুন, যিনি নিজেও স্বামী পরিত্যক্তা, বর্তমানে বাঘা পৌরসভার বাজুবাঘা গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তিনি জানান, গত ১২ জানুয়ারি মাকে পিতৃগৃহ থেকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ১৪ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগে ছয় দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হয়। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও সাত দিন চিকিৎসা এবং রাজশাহীর একটি বেসরকারি সিআরপিতে নয় দিন থেরাপি দেওয়া হয়। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তাঁকে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শিল্পী খাতুনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাসলিমা বেগম মেঝেতে শুয়ে আছেন এবং স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকায় তাঁর শরীরে পক্ষাঘাতের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছিল তাঁর।
এর আগে স্থানীয় সমাজপতি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে তাঁকে স্বামীর বাড়িতে ফেরানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেন বাদী। পরবর্তীতে আইনি সহায়তা নিতে বাধ্য হন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, “দেখভাল করিনি—এটা সঠিক নয়। সাত বছর আগে স্ট্রোক হলে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। এবার আর্থিক সংকটের কারণে চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়নি। বড় মেয়ে নিজ ইচ্ছায় নিয়ে গেছে।” একই দাবি করেছেন দুই ছেলেও।
এ বিষয়ে রাজশাহীর শাহদৌলা সরকারি কলেজ-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল হানিফ মিয়া বলেন, দেশে প্রবীণদের ভরণপোষণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পরিবারভিত্তিক দায়িত্বকে কার্যকর ও সম্মানজনক কাঠামোর আওতায় আনতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি বলেও মত দেন তিনি।
১৪০ বার পড়া হয়েছে