এমপি ও ডিআইজি কঠোর হুঁশিয়ারি
নরসিংদীতে তরুণীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান হোতা নূর মোহাম্মদ নূরা এখনও পলাতক রয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেজাউল করিম মল্লিক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
পরিদর্শন শেষে মাধবদী থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও হোসেন বাজার এলাকার গাফফারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত এবং তিনজন সালিশ বৈঠকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ডিআইজি বলেন, “কোনো অপরাধীই রেহাই পাবে না। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অপরদিকে সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি নরসিংদীর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তিনি এ ঘটনাকে নৃশংস ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষে কেউ যেন সহানুভূতি না দেখায় সে বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপিকে অবহিত করা হয়েছে। তার মতে, অপরাধ করলে আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে না—এমন বার্তা সমাজে গেলে অপরাধ প্রবণতা কমবে।
এমপি বলেন, “অপরাধীর কোনো দল নেই। সে যে দলেরই হোক, অপরাধ করলে তাকে অপরাধী হিসেবেই বিচার করতে হবে। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।”
এদিকে নিহত আমেনার মরদেহের ময়নাতদন্ত নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। মরদেহ এখনও মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের মা ফাহিমা বেগম জানান, কোথায় দাফন করা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নিহতের মা, সৎ পিতা আশরাফ মিয়া ও ভাই সিফাত বর্তমানে মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে